আজ: শনিবার ৭ই বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে এপ্রিল ২০১৯ ইং, ১৪ই শাবান ১৪৪০ হিজরী

কওমি শিক্ষাবোর্ডে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা

শনিবার, ১৩/০৪/২০১৯ @ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ । জাতীয় দিনের সেরা শিক্ষাঙ্গন শীর্ষ খবর

নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি বিষয়টির তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে আল হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। শনিবার বোর্ডের জরুরি বৈঠকে প্রশ্নফাঁসের উৎস খুঁজতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান মুফতি রুহুল আমিনকে সভাপতি করে এ কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বেফাক মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া ও মাওলানা মাহফুজুল হক।

হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে সংস্থাটির মতিঝিল কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে দাওরায়ে হাদিসের প্রশ্নপত্র ফাঁস বিষয়ে তদন্ত করতে এ কমিটি গঠন করে কওমি মাদ্রাসার সম্মিলিত এ বোর্ড।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান মুফতি রুহুল আমিন জানান, কওমি মাদ্রাসার পরীক্ষার পরিবেশ সবসময় নকলমুক্ত ছিল। আগে কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। এ বছর হঠাৎ কেন এমন হলো, আমরা বিষয়টি তদন্ত করব।

বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস পরিচালিত ফরিদাবাদসহ কয়েকটি বড় মাদ্রাসা জড়িত থাকার কথা ওঠেছে এমন প্রশ্নের জবাবে মুফতি রুহুল আমিন বলেন, পুরো ঘটনা সামনে আসার পর দোষীদের চিহ্নিত করা যাবে। এর আগে নিশ্চিতভাবে কারও ওপর দায় চাপানো যাচ্ছে না। প্রশ্নফাঁসের সঠিক তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাওকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

এ দিকে গত ০৮ এপ্রিল শুরু হওয়া দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল জামাত) পরীক্ষা বাতিল করে পরীক্ষার নতুন সময়সূচি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে ৩মে পর্যন্ত নতুনভাবে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

হাইয়াতুল উলইয়ার সদস্য ও বেফাকের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ জানান, আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে দাওরায়ে হাদিসের সব বিষয়ের পরীক্ষা আবার নতুন করে অনুষ্ঠিত হবে। ৩মে পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রুটিন প্রকাশ করা হবে।

প্রসঙ্গত, প্রশ্নফাঁস হওয়ায় ১৩ এপ্রিল সারা দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল জামাত) পরীক্ষা বাতিল করে আল হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। ফাঁস হওয়া প্রশ্নগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্নগুলোর কয়েকটি কপি গণমাধ্যমেরও হস্তগত হয়।

৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কয়েকটি পরীক্ষায় ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের খবর পাওয়া যায়। এরপরই শনিবার সকালে জরুরি সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বেফাক বোর্ডের মিশকাত জামাতেরও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনে ১৯ সেপ্টেম্বর ‘কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল-২০১৮’পাস হয়।

চাঁদ দেখা বিতর্ক: ১১ সদস্যের উপকমিটি গঠন
দিল্লির মসনদ দখলের লড়াই