আজ: শনিবার ৭ই বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে এপ্রিল ২০১৯ ইং, ১৪ই শাবান ১৪৪০ হিজরী

চট্টগ্রামে কোটি টাকা নিয়ে ব্যবসায়ী উধাও

রবিবার, ০৭/০৪/২০১৯ @ ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ । অর্থ ও বাণিজ্য আইন-অপরাধ চট্টগ্রাম দিনের সেরা শীর্ষ খবর

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামে ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র খাতুনগঞ্জ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ব্যবসায়ীদের উধাও হওয়ার  ঘটনা বাড়ছে। এতে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত ব্যবসায়ী। ভাঙছে বিশ্বাস। নামছে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা। যার প্রভাব আসন্ন রমজানের বাজারেও পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। গত মার্চ মাসে
খাতুনগঞ্জ থেকে দুই ব্যবসায়ী ১২৭ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন। এদের মধ্যে খাতুনগঞ্জের মেসার্স সফি ট্রেডার্সের মালিক শাহ জামাল ৫৭ কোটি টাকা ও ঢাকার মৌলভী বাজারের দেলোয়ার হোসেন ৭০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন।

এসব টাকা খাতুনগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ীর পাওনা টাকা।

যা হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে তারা। এভাবে ফেব্রুয়ারি মাসে ২১৭ কোটি টাকা নিয়ে তিন ব্যবসায়ী, জানুয়ারি মাসে ১৫ কোটি টাকা নিয়ে এক ব্যবসায়ী উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০১৮ সালে ২৩ জন ব্যবসায়ী ১ হাজার কোটি টাকার মতো নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন।
তিনি জানান, সর্বশেষ গত মার্চ মাসের শেষ সময়ে খাতুনগঞ্জের জেনারেল মার্চেন্ট কমিশন এজেন্ট ও চিনির বড় ব্যবসায়ী মেসার্স সফি ট্রেডার্সের মালিক শাহ জামাল ৫৭ কোটি টাকা পরিশোধ না করে উধাও হয়ে যান। উধাও হয়ে যাওয়ার পর শত শত পাওনাদার তার দোকান ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টিজ এসোসিয়েশন কার্যালয়ে ভিড় করেন।

সমিতির নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন। ফলে দুই মাস ভারতে আত্মগোপনে থাকার পর দেশে ফিরে আসেন শাহ জামাল। এরপর তাকে নিয়ে খাতুনগঞ্জ ট্রেড এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ পাওনাদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক করেন। শাহ জামালও কিছু টাকা পরিশোধ করার সম্মতি দেন। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য ৩-৪ বছর সময় চান। কিন্তু পরদিন দোকান বন্ধ করে তিনি অস্ট্রেলিয়া পালিয়ে যান।
তিনি জানান, শাহ জামাল পটিয়ার বাসিন্দা। তার এক ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করেন। লাপাত্তা হওয়ার আগে ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। তারপর নিজস্ব ভূমিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, খাতুনগঞ্জ শেখ মার্কেট, দেওয়ান বাজারের নিজস্ব ভবনসহ সহায়-সমপত্তি স্ত্রী ও সন্তানদের নামে দানপত্র করে দেন। এরপর ছেলেকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমান।

এদিকে, ঢাকার মৌলভী বাজারের বড় ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনও গত সপ্তাহে উধাও হয়েছেন। তার কাছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের অনেক আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী পণ্য সরবরাহ করতেন। তিনিও চিনি ব্যবসায়ী। ১০ জন বড় ব্যবসায়ী তার কাছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিসমিল্লাহ গ্রুপের জামাল উদ্দিনের পাওনা প্রায় ১৯ কোটি টাকা।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সমপাদক ছৈয়দ ছগীর আহমদ জানান, খাতুনগঞ্জের ব্যবসা ও লেনদেন হচ্ছে চেইনের মতো। একজন আরেকজনের ওপর নির্ভরশীল। একটি পক্ষ মার খেলে আরো কয়েকটি পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, দেশের ভোগ্যপণ্যের বড় বাজার খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের গোড়াপত্তন থেকে মুখের বিশ্বাসে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়ে আসছে। কিন্তু ১৯৮৩ সাল থেকে টাকা মেরে প্রতারণার ঘটনা শুরু হয়। এরপর থেকে বিশ্বাসের লেনদেনের চিড় ধরে। প্রতারণা ও লাপাত্তার ঘটনায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসে।

খাতুনগঞ্জে ব্যবসায়িক প্রতারণার বিষয়ে মীর গ্রুপের পরিচালক মীর মোহাম্মদ হাসান বলেছেন, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কথা নয়, খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের কেউ চান না ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাক। গত চার বছর ধরে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী লোকসান গুনেছেন। যারা ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত, তাদের পুঁজি চলমান রাখতে পারলেও অনেকেই বিপদে পড়ে যাচ্ছেন। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে পারছেন না। দেশে ব্যাংকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। ব্যাংকগুলো দ্রুত লাভ করতে চায়। শিল্প লোন হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী পরিশোধযোগ্য আর এলসি লোন হচ্ছে স্বল্পমেয়াদী। তিন-চার মাসের মধ্যে টাকা আদায় করা হয়। এ কারণে ব্যাংকগুলো এলসি লোনের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে।

তিনি বলেন, আমদানিকারকদের মধ্যে বেশিরভাগ খাদ্যপণ্য আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এই পণ্য বিক্রি করে সহজে ও দ্রুত টাকা উত্তোলন করা যায়। শুধু চট্টগ্রামে নয় ঢাকাতেও ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকদের সংখ্যা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে।
তিনি বলেন, গত চার বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের বাজার ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। ১২শ’ ডলারের মসুর এখন ৪শ’ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ১ হাজার ডলারের ছোলা ৫শ’ ডলার। ২২শ’ টাকার চিনি এখন ১৬শ’ টাকা। ৩২শ’ টাকার তেল ২ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীদের পুঁজি শুধু কমছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়িক মূলধন চলমান রাখতে না পারায় অনেক ব্যবসায়ী চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ এখানকার ব্যবসা হচ্ছে একে অপরের উপর নির্ভরশীল। টাকা ঘুরতে ঘুরতে লোকসানের পরিমাণ বেড়ে যায়। একপর্যায়ে এসে তা থেকে যায়। বাধ্য হয়ে সরে যেতে হচ্ছে। আমি বলব, অভাবে স্বভাব নষ্ট হচ্ছে। না হলে কোনো ব্যবসায়ী চান না, ব্যবসা গুটিয়ে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে।
দু-একটি ঘটনা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, এয়াছিন এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ মুছা পরিকল্পনা করে খাতুনগঞ্জ থেকে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা এবং ব্যাংক থেকে প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। আরো দু-একজন এভাবে উধাও হয়েছেন। অন্যদের বেশিরভাগ লোকসান গুনে বাধ্য হয়ে পালিয়ে গেছেন। এটা খাতুনগঞ্জে নয়, ঢাকাতেও হচ্ছে।

লংগদুতে সেনাবাহিনী-ইউপিডিএফের বন্দুকযুদ্ধ, অস্ত্রসহ আটক ৩
শিলক বেদৌরা আলম উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্রীড়ার পুরষ্কার বিতরণ