আজ: রবিবার ১০ই চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২৪শে মার্চ ২০১৯ ইং, ১৫ই রজব ১৪৪০ হিজরী

ঠাকুরগাঁওয়ে হিমাগারের অ্যামোনিয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ মানুষ

বুধবার, ১৩/০৩/২০১৯ @ ৬:১৮ অপরাহ্ণ । জনপদের খবর

মো. মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলায় হিমাগারে বিস্ফোরণের পর আশপাশে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বহু মানুষ অসুস্থ হওয়ার পাশাপাশি বিস্তৃীর্ণ এলাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে আকচা ইউনিয়নের উত্তর ঠাকুরগাঁও গ্রামে ‘আমানত কোল্ড স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডে’ বিস্ফারণ ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। বিস্ফোরণের দুইঘণ্টা পর তা মেরামত করা হয়েছে বলে হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর ঠাকুরগাঁও প্রামে অবস্থিত আমানত কোল্ড স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডের অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় ৪০ একর জমির মরিচ, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া ক্ষেত, লিচু ও আম বাগানের পাতাগুলো ঝলসে গেছে। এছাড়া অসুস্থ হয়েছে নারী-পুরষ, বৃদ্ধ ও শিশু। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ক্ষতিপূরণ দাবি করে বিকালে কোল্ড স্টোরেজের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। স্থানীয়রা জানায়, সোমবার রাত ২টার দিকে আমানত কোল্ড স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই হিমাগারের ভেতরে অ্যামোনিয়া গ্যাসের পাইপ ফেটে যায়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে নির্গত অ্যামোনিয়া গ্যাস গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বহু অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। অন্তত ৪০ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। ক্ষতিগ্রস্থ জহল রায় বলেন, “কোল্ড স্টোরেজের অ্যামোনিয়া গ্যাসের কারণে আমার আড়াই বিঘা জমির মিষ্টি কুমড়া ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে আমার চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।” যদুরাম বর্মন বলেন, অ্যামোনিয়া গ্যাসে তার ১ একর জমির মরিচ ক্ষেত ঝলসে গেছে; যাতে তার অন্তত ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় অরুণ রায়, ধনি চরণ, ভবেশ চন্দ্র রায়, আব্দুল লতিফ বলেন, অ্যামোনিয়া গ্যাসের কারণে গ্রামের প্রায় ৪০ একর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ও বিভিন্ন বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে অন্তত ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। গৃহবধূ শ্রীমণি রায় বলেন, হঠাৎ করে রাতে গ্রামে কোল্ড স্টোরেজের অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে নাক-মুখ জ্বালাপোড়া করে; পাশাপাশি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এই গ্যাসের কারণে গ্রামের অসংখ্য মানুষ অসুস্থ হয়েছেন। সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম বলেন, “আমানত কোল্ড স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডের অ্যামোনিয়া গ্যাস উত্তর ঠাকুরগাঁও গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৪০ একর জমির ফসল ও বাগান নষ্ট হয়ে যায়। আমরা এই এসে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করছি।” উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল আমিন খান বলেন, অ্যামোনিয়া গ্যাসের কারণে উত্তর ঠাকুরগাঁও গ্রামে অসংখ্য মানুষ অসুস্থ হয়েছে। “আমরা ৭০ জন নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছি। এর মধ্যে ছয় জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।” তবে এতে জনস্বাস্েেথ্যর দীর্ঘস্থায়ী কোনো ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানান। আকচা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মন বলেন, “কোল্ড স্টোরেজের অ্যামোনিয়া গ্যাসে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে; তাই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।” আমানত কোল্ড স্টোরেরেজের মালিক আব্দুল্লাহ বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা। কৃষি অফিসার মাঠ পর্যায়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করছেন। তালিকা তৈরি হলে জানা যাবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ হওয়ার পর আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা করব।” ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাটি জানার পর ঘটনাস্থল মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে; সেইসাথে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করার জন্য একজন কৃষি অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমানত কোল্ড স্টোরেজের ফোরম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, রাতে হঠা বিস্ফোরণে একটি পাইপ ফেটে অ্যমোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দুই ঘণ্টার চেষ্টায় তা আবার মেরামত করা হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
নৌকার বিপক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন সাংসদ, কমিশনে লিখিত অভিযোগ!