আজ: সোমবার ৯ই বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২শে এপ্রিল ২০১৯ ইং, ১৬ই শাবান ১৪৪০ হিজরী

তালেবানকে মার্কিন আলোচনায় বসতে বাধ্য করছে পাকিস্তান

শনিবার, ০৯/০২/২০১৯ @ ৫:২০ পূর্বাহ্ণ । আন্তর্জাতিক

নিউজ ডেস্ক: আফগান যুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিন বনিবনা হচ্ছিল না যুক্তরাষ্ট্রের। অথচ এবার তালেবানের সঙ্গে মার্কিন শান্তি আলোচনার সমর্থনে দৃশ্যের আড়ালে থেকে মূল ভূমিকা রাখছে ইসলামাবাদ। এমনকি আলোচনায় যোগ দিতে তালেবান নেতাদের সফরেও সহায়তা করছেন তারা। পরিবার সদস্যদের আটকে রেখে আলোচনায় অংশ নিতে তালেবান নেতাদের বাধ্য করছে পাকিস্তান। মার্কিন কর্মকর্তা ও তালেবান সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে। এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত আসেনি।

পাক সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে, যেসব তালেবান নেতা শান্তি আলোচনায় সহায়তা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, তাদের ওপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগ করছে পাকিস্তান। বিদ্রোহীরা বলেন, তাদের পরিবার সদস্যদের আটকে রেখেও চাপ দেয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, পাকিস্তানের এ সহযোগিতা অস্থায়ীভাবে হতে পারে। কাজেই শান্তি আলোচনায় পাক ভূমিকা খুবই নাজুক একটি অংশ। কারণ এখন তালেবানের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের দিকটি এড়িয়ে চলতে চাচ্ছে তারা। যদিও বিদ্রোহী গোষ্ঠীটর ওপর পাক প্রভাবের যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনেক আগের। তালেবানও পাকিস্তানের কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ থাকতে চাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, গত ১৭ বছরের যুদ্ধে আফগানিস্তানের নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে তালেবানকে সহায়তা ও নিরাপত্তা দিচ্ছে পাকিস্তান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার আভাস দিয়ে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম এ যুদ্ধের অবসান চাচ্ছেন তিনি। চলতি সপ্তাহে স্টেট অব ইউনিয়নের ভাষণে তিনি বলেন, একটি মহান রাষ্ট্র অনন্তযুদ্ধে লিপ্ত থাকতে পারে না।

আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আমরা জানি তাদের সমর্থন ছাড়া এটা কোনোভাবেই সম্ভব না। দোহা আলোচনায় তালেবানের ভ্রমণ ও যাতায়াতে তারা সহযোগিতা করছে।

আফগানিস্তানের রাজনৈতিক সমাধানে আলোচনা জোরদার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইতিমধ্যে গত মাসে দোহায় তালেবানের সঙ্গে মার্কিন দূত জালমি খলিলজাদ ছয়দিনব্যাপী আলোচনা শেষ করেছেন। এ পর্যন্ত এটাই দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা।

আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের মধ্যে ফের আলোচনা হবে জানা গেছে। ওয়াশিংটনের একটি ফোরামে ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক সময়ের ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন মার্কিন দূত জালমি খলিলজাদ।

তিনি বলেন, তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনাকে সহজতর করার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। এমনকি আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানের আলোচনারও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে দেশটি।

আফগান সরকারকে পশ্চিমাদের পুতুল আখ্যায়িত করতে তাদের সঙ্গে বসতে বারবার অনিচ্ছার কথা জানিয়ে আসছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।

তালেবান সূত্র জানায়, আলোচনার টেবিলে তালেবানকে নিয়ে আসায় পাকিস্তানের সহযোগিতা উপকরণগত। ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে তালেবানকে পাকিস্তান বার্তা পাঠিয়েছে যে তাদেরকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে নতুবা সম্পর্কোচ্ছেদের দিকে যেতে হবে। আলোচনায় অংশ নিতে তালেবানের ওপর চাপ তৈরি করতে বিদ্রোহীদের পরিবার সদস্যদের আটকে রাখছে পাকিস্তান। এক জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতা বলেন, আগে কখনো পাকিস্তানকে এতটা আন্তরিক হতে দেখিনি।

নাম প্রকাশে এক তালেবান নেতা বলেন, গত কয়েক মাসে বিদ্রোহী ও তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের ওপর নজিরবিহীন চাপ তৈরি করেছে পাকিস্তান। তারা বিষয়টি আমাদের কাছে পরিষ্কার করেছে যে, আমাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান সরকারের সঙ্গে বসতে হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা ইসলামাদকে নিয়ে এখনো সর্বোচ্চ সন্দেহের মধ্যে রয়েছেন। তারা পাকিস্তানের এমন কোনো পদক্ষেপ দেখেনি যেটা পরস্পরবিরোধী হয়নি।

ইসলামাবাদকে মার্কিন সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তে এখনো অটল রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তালেবানকে সহায়তার অভিযোগে গত এক বছর আগে মার্কিন সহায়তা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ, অতীতে পাকিস্তানকে যে সহায়তা দেয়া হয়েছে, তার বিনিময়ে মিথ্যা ও প্রতারণা ছাড়া কিছু পাওয়া যায়নি।

গত বছর পর্যন্ত আফগানিস্তানের পেন্টাগনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিলেন জেশন ক্যাম্পবেল। তিনি বলেন, পরিষ্কারভাবে এখানে কিছু নিজ স্বার্থ রয়েছে পাকিস্তানের। কাজেই বিষয়টি নিয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। শান্তি প্রক্রিয়ায় বর্তমানে তাদের অবস্থান নিয়ে আগ থেকে কিছু বলা যাবে না।

ওয়াশিংটনে আফগান দূত রয়া রাহমানি বলেন, পাকিস্তানি আচরণের পরিবর্তন কাবুলের কাছে এখনো পরিষ্কার না। যদিও কাবুল শান্তি আলোচনার অংশীভূত হয়নি। তবে আমরা বিষয়টি দৃশ্যমান হওয়ার অপেক্ষায় আছি।

পাকিস্তানি সূত্র জানায়, আলোচনায় তার দেশের সমর্থন কোনো মার্কিন সহায়তা নয়। কিন্তু আঞ্চলিক অর্থনীতির ভেতর দিয়ে যে আঘাতের কম্পন বয়ে যাচ্ছে, তাতে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ত্বরান্বিত করছে।

গত ডিসেম্বরে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে এই উদ্বেগ থেকেই। আফগানিস্তানে এখন ১৪ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। তাদের উপস্থিতির অর্থ হচ্ছে আফগানিস্তানে মার্কিন সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।

ইসলামাবাদ বলছে, আফগানিস্তানের বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হওয়ার ধাক্কা পাকিস্তান সইতে পারবে না। কারণ নিজের অর্থনীতিকে সতেজ করে তুলতে পাকিস্তান বিদেশি বিনোয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে চাচ্ছে।

উইঘুর মুসলিমদের মুক্তি দিতে চীনকে তুরস্কের চাপ
ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উদ্বোধন