আজ: রবিবার ১০ই চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২৪শে মার্চ ২০১৯ ইং, ১৬ই রজব ১৪৪০ হিজরী

কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশের যাত্রা

রবিবার, ০৪/১১/২০১৮ @ ৬:০২ পূর্বাহ্ণ । অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় দিনের সেরা শীর্ষ খবর

নিউজ ডেস্ক: অর্থমন্ত্রী যখন বলছেন দেশে ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হয়ে যাচ্ছে, সীমিতকরণ করতে হবে। কিছু ব্যাংক একীভূত করতে হতে পারে। সেই সময়ে দেশে আরো একটি ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকের তালিকায় ঢুকল। সর্বশেষ যোগ হওয়া ব্যাংকটি হলো কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। এ নিয়ে দেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯টিতে। বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট এই ব্যাংকটি পরিচালনা করবে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে কমিউনিটি ব্যাংককে তফসিলি ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত করে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ। ওই দিন থেকেই এ ব্যাংকটিকে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে কার্যকর বলে ঘোষণা করা হয় সার্কুলারে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার-১৯৭২ এর ৩৭ (২) (এ) এ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ১ নভেম্বর ২০১৮ থেকে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকে তফসিলি ব্যাংকরূপে তালিকাভুক্ত করা হলো। এ ব্যাংকটিসহ সরকারি-বেসরকারি মিলে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯টিতে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে ১১টি নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দেশি ও প্রবাসী উদ্যোক্তারা ৯টি এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি ব্যাংক (সীমান্ত ব্যাংক) পেয়েছে। সর্বশেষ পেল পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানায় কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।

গত ২৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় কমিউনিটি ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ১ নভেম্বর ব্যাংকটিকে তফসিলি ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত করে এর শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে ব্যাংক কম্পানি আইনের ১৯৯১ (সংশোধিত ২০১৩) আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, ১৪ক (১) ‘কোনো ব্যক্তি, কম্পানি বা একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ব্যাংকের শেয়ার কেন্দ্রীভূত করা যাইবে না এবং কোনো ব্যক্তি, কম্পানি বা কোনো পরিবারের সদস্যরা একক, যৌথ বা উভয়ভাবে কোনো ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ক্রয় করিবেন না।’ এর ফলে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষে ব্যাংকের শেয়ার ধারণে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকল না।

এর আগে বাংলাদেশ পুলিশ বাণিজ্যিকভাবে এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে ২০১৭ সাল থেকে কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে মূলধনের ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ শুরু করে। পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে গত ফেব্রুয়ারিতে মূলধন সংগ্রহ শেষ হয়। গুলশানে পুলিশ প্লাজা কনকর্ডে করা হয়েছে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়। এরই মধ্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মিডল্যান্ড ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মশিউহুল হক চৌধুরীকে।

কমিউনিটি ব্যাংকের মাধ্যমে সারা দেশে পুলিশ সদস্যদের বেতন দেওয়া হবে। আপাতত পুলিশ সদস্যরাই হবেন এই ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার। এর লভ্যাংশ যাবে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে। ব্যাংক লাভজনক হলে তিন বছর পর মূলধন জোগানের ওপর প্রত্যেকে নির্ধারিত হারে লভ্যাংশ পাবেন। এ ছাড়া পুলিশ সদস্যদের জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা উদ্যোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে সর্বশেষ তফসিলি ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। গত ৩০ জুলাই থেকে এই ব্যাংকটি অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বর্তমানে সরকারি খাতে ৯টি (সোনালী, রূপালী, অগ্রণী জনতা, বেসিক, বিডিবিএল, বিকেবি, রাকাব ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক), বেসরকারি খাতে ৪২টি এবং বিদেশি খাতের ৯টি তফসিলি ব্যাংক রয়েছে।

আবারো সংলাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ঐক্যফ্রন্টের চিঠি
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু মধ্য নভেম্বরে