আজ: শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং, ৮ই রবিউল-আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

চবি শিক্ষক মাইদুল জামিনে মুক্ত

মঙ্গলবার, ৩০/১০/২০১৮ @ ৬:১৮ অপরাহ্ণ । চট্টগ্রাম শিক্ষাঙ্গন

নিউজ ডেস্ক: ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের মামলায় একমাস ছয়দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষক মাইদুল ইসলাম। তবে, আরো ২০ দিন আগেই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাকে জামিন দিয়েছিলেন। প্রায় ২০ দিন পর সোমবার দিনগত রাতে হাইকোর্টের জামিন আদেশটি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছে। যাচাই-বাছাই শেষে গতকাল সকালে মাইদুল ইসলামকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয় বলে জানান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক।

মাইদুলের আইনজীবী ভুলন লাল ভৌমিক জানান, গত ৯ই অক্টোবর বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে ছয়মাসের জামিন পান মাইদুল ইসলাম। এর ২০ দিন পর হাইকোর্টের জামিন আদেশ চট্টগ্রাম কারাগারে এসে পৌঁছে।

মুক্তির পর শিক্ষক মাইদুল বলেন, ‘মুক্তি পেয়ে আমি সাময়িকভাবে খুশি। কিন্তু পরিপূর্ণ আনন্দিত নই। মত প্রকাশের জন্য এখনো অনেকে কারাগারে আছেন। রাষ্ট্র যেভাবে মুক্তবুদ্ধির চোয়ালে আঘাত হানছে তা কাম্য নয়। মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তা, সেক্যুলারিজম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলা হয়। তাহলে মুক্তচিন্তার প্রকাশে কেউ বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।’

উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিন পাওয়ার পর প্রিয় ক্যামপাসে ফেরার আকুতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ক্লাসে ফিরতে চাই। দীর্ঘদিন ক্লাস নিতে পারি না। আবার ক্লাস নিতে পারব সেজন্যই পুলকিত।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে গত ২৩শে জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের পক্ষে অবস্থান নেয়া এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় মামলা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য ইফতেখারুল ইসলাম। মামলার পর হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন নেন মাইদুল।

ওই জামিনের মেয়াদ শেষে ২৪শে সেপ্টেম্বর মাইদুল চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়ার পর গত ২৫শে সেপ্টেম্বর এই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে, পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মাইদুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে, হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর রিমান্ড স্থগিত হয়।

থানায় মামলার আগে মাইদুল ইসলামসহ দু’জন শিক্ষককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিল ছাত্রলীগ। হুমকির মুখে দুই শিক্ষক ক্যামপাসে যাওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমনকি মাইদুল ইসলাম চবি ক্যামপাসের বাসাও ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।

এর আগে গত ১৭ই জুলাই সমাজতত্ত্ব বিভাগের মাইদুল ইসলাম এবং যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খ. আলী আর রাজীকে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু।

শিক্ষক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের মামলার বাদী ইফতেখারুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি আলমগীর টিপুর অনুসারী হিসেবে ক্যামপাসে পরিচিত।

‘আ’লা হযরতের রচনা সমগ্র মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদাহ্ রক্ষায় নিয়ামক শক্তি হয়ে থাকবে’
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত গ্রেফতার