আজ: শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং, ৮ই রবিউল-আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

‘ব্রেস্ট ফিডিং বা দুগ্ধপান’ দুগ্ধজাত শিশুর মৌলিক অধিকার

রবিবার, ৩০/০৯/২০১৮ @ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ । কলাম ফেসবুক সংকলন

মো. মোজাহেদুল ইসলাম

♦মো. মোজাহেদুল ইসলাম♦
যে যা খেয়ে জীবন ধারন করে তা-ই তার ১ম মৌলিক অধিকার। সে দৃষ্টকোণ হতে ‘দুগ্ধপান’ একজন দুগ্ধজাত শিশুর মৌলিক অধিকার। শুধু মানুষ নয়, পৃথিবীর আরো অনেক প্রাণী মায়ের স্তন পান করে বেড়ে উঠে। পার্থক্য হল, পশুদের স্তন পান করাতে আড়ালে-আবডালে যেতে হয়না কারণ তাদের পর্দা প্রথা বা লজ্জাশীলতা কোনটার প্রয়োজনীয়তা নেই। কিন্তু মানব জাতির ধর্ম বিশেষে পর্দা প্রথা যেমন আছে লজ্জাশীলতাও তেমনি আছে। অবশ্য ‘ওপেন বডি কালচারের’ দেশ এটির আওতামুক্ত।
লজ্জাশীলতার পাশাপাশি ধর্মীয় বাঁধা নিষেধ যেহেতু আছে তাই, নারী সমাজের মায়েরা ইচ্ছা করলেই সব জায়গায় তাদের সন্তানদের স্তন পান করাতে পারেন না। ব্রেস্ট ফিডিং বা দুগ্ধ/স্তন পান করানো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে নবজাকতদের জন্য। যাদের বয়স ছয় মাসের নিচে তাদের জন্য একরকম বাধ্যতামূলক। সুতরাং, এটা এড়িয়ে যাবার বিষয় নয়। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কারণে বিশেষ কোন জাতি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় ব্যতীত পৃথিবী’র প্রায় সকলেই মায়ের দুধ পান করেই বেড়ে উঠেছে।
আর যারা মায়ের দুধ পান করেনি, তারা দুধমাতার দুধ পান করে বেড়ে উঠেছেন। যেমন, আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি দুধমাতা হালিমা সাদিয়া (রা.)-এর দুধ পান করেছেন। আর দুধমাতার সম্মানও মায়ের কাছাকাছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিজের পবিত্র শরীরের চাদর মোবারক বিছিয়ে দিয়ে তাকে সেখানে বসতে দিয়ে সম্মানিত করার মাধ্যমে দুধমাতার সম্মান কেমন হতে হবে সে শিক্ষা দিয়েছেন। ইসলাম ধর্মে দুধবোনকে বিয়ে করা হারাম ঘোষনা করা হয়েছে। এই ঘোষণা, বিষয়টিকে আরো গুরুত্ববহ করে তুলেছে। জীবন-জীবিকা বা সময়ের প্রয়োজনে তাদেরকে নবজাত সন্তান নিয়ে বাইরে যেতে হয় কিন্তু সংরক্ষিত কোন ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার’ না থাকার কারণে সন্তানদের স্তন দানের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। হয়ত দেখা যায়, মাতৃ স্নেহের দায়ে বাচ্চাদের স্তন দানের কোন জায়গা বেঁচে নিল কিন্তু সেখানে বখাটেদের উৎপাত সৃষ্টি হল, এমন পরিস্থিতিতে তারা ব্যাপক বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন।
ঘটনা-১
ইমন সাহেবের একটা বাচ্চা ছেলে আছে, বয়স সবে মাত্র পাঁচ মাস, তাকে মায়ের দুধের বিকল্প কোন খাবার এখনো দেয়া হয়না। ছুটির দিনে ইমন সাহেব তার স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে গেলেন প্যানারোমা জুম রেস্তোরাঁ’য়।  ঘুরে বেড়ানোর এক ফাঁকে তারা নাস্তা সেরে নিল কিন্তু সমস্যা দেখা দিল তার বাচ্চাটাকে দুধ পান করানো নিয়ে। অপর দিকে বাচ্চার কান্না এবং তার ক্ষুধা নিবারন করাতে বাচ্চার মা একেবার অস্থির। কোথাও নিভৃতে বসে বচ্চাকে দুধ পান করাবে এমন কোন স্থান নেই বললেই চলে। অবশেষে পার্কে কৃত্রিম গুহার মুখে অচল পড়ে থাকা শিশু ট্রেনটা ভরসা করে বাচ্চাকে দুধ পান করাতে গেলেন এবং স্বামীকে গুহার মুখে দাড় করিয়ে রাখলেন। একটু পরেই বখাটেরা এসে জুটল আর উঁকি মারতে চেষ্টা করলে ইমন সাহবেকে বলে দিতে হচ্ছে ভাই এদিকে আসিয়েন না, বাচ্চাকে দুধ পান করানো হচ্ছে। এভাবে একে একে দু’বার। বুঝুন অবস্থা!
ঘটনা-২
সম্প্রতি জাহিদ তার বোন ও ১২ দিন বয়সের নবজাতক ভাগিনাকে নিয়ে গেলেন চট্টগ্রামের বিখ্যাত ডায়াগনস্টিক সেন্টার সেভরনে। যথারীতি কিছুক্ষণ পরে বাচ্চাকে দুধ পান করানোটা জরুরি হয়ে পড়ল। কিন্তু এখানেও সমস্যা চারদিকে শত শত রোগি-অভিভাবক বসে আছে বাচ্চাকে দুধ পান করানোর মত কোন কর্ণার আছে কিনা খুঁজে দেখে ব্যর্থ হল জাহিদ। অবশেষে রিসেপশনে জিজ্ঞেস করে কোন কাজ হলনা তারা তাদের কাজে এত ব্যস্ত যে, তার দিকে মুখ তুলে থাকানোর সময় নেই। অবশেষে লিপ্ট দাড়োয়ান কে জিজ্ঞেস করলে, সে জানেনা বলে, আরেক জন দাড়োয়ান কে দেখিয়ে দিয়ে তার কাছে জানতে চাওয়ার জন্য বললেন। অপর জনকে জিজ্ঞেস করলে, সে বলল এমন কোন কর্ণার নেই। সিড়ির নিচে যেখানে বৈদ্যুতিক সুইচ ও ফটোকপি কর্ণার সেখানে পারা যায় কিনা চেষ্টা করতে বললে তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঐ সিড়ির নিচের কুঠরিতে বচ্চাটাকে দুধ পান করাতে হল!
এদিকে গুরুত্বের সহিত নজর দানের কোন সরকারী পদক্ষেপ বা সংস্থা না থাকায় বিষয়টি অবহেলিত। যদিও কিছু হাসপাতালে ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার আছে তা অতি নগণ্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন বড় বড় শপিং মল, দর্শনীয় স্থান, জাদুঘর, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার বা দুগ্ধ পান করানোর জন্য সংরক্ষিত স্থানের ব্যবস্থা করা একান্ত জরুরি মনে করছি।
তাই এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার, সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং নিজ নিজ অবস্থান হতে জনমত সৃষ্টির অনুরোধ করছি।

লেখক: সহকারী শিক্ষক, পোমরা জামেউল উলুম ফাযিল মাদরাসা

হযরত মীর মোহাম্মদ অলি উল্লাহ মাইজভান্ডারী (রহ.)
জামেয়া-আনজুমানের খেদমতে অতুলণীয় ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ আলকাদেরী (রা.)