আজ: শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং, ৮ই রবিউল-আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ধর্মীয় নির্দেশনা ও আমাদের চালচিত্র

সোমবার, ১৯/০৩/২০১৮ @ ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ । কলাম ধর্ম জীবন প্রবাস ফেসবুক সংকলন

♦ খাজা মঈন উদ্দীন ♦

আমরা সবাই এখন ফ্যাশনেবল হয়ে গেছি। ফেসবুক খুললে বিভিন্ন তরিকার ছবি আর ছবি। সাধারন থেকে শুরু করে ধর্মীয় গুরু সহ কেউ পিছিয়ে নেই। অবাক লাগে যখন দেখা যায় অনেক ধর্মীয় রাজনীতিবীদ ধর্মীয় স্কলার তাদের স্ত্রী সহ উপযুক্ত মেয়ে সন্তানদের পর্দার বাইরে এনে পোজ দিতে দেখে। আমরা সবাই নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, হজ্জ করি, নবীরসুল বিশ্বাস করি, কোরানহাদিস সত্য তা বিশ্বাস করি, বেহেস্তদোজখ সত্য তাও বিশ্বাস করি। কিন্তু জেনেও পাপ করতে ছাড়িনা। ভাল এবং মন্দ দুইটা কি সমান্তরাল ভাবে চলতে দেয়া কখনো সমিচিন? আমরা জানি পাপ করলে মৃত্যুর পর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে তবুও দুমুখি নীতি কেন আমরা গ্রহন করি? অনেকের যুক্তি ফ্যাশনের যুগে তা না করলে চলেনা। তাহলে সর্বশক্তিমান আল্লাহয় বিশ্বাস কতটুকু বাকী রইল তা কি একবার ভেবে দেখেছি? একজন ধর্মীয় নেতা বললেনআমরা দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে, যে করে হোক আমাদের ক্ষমতায় যেতে হবে, সরকার হোক আর বিরোধী দলে হোক সংসদে আমাদের অংশিদারিত্ব নিতে হবে। সে জন্য যদি কারো পথ মত আল্লাহ রসুলের নীতির সাথে সাংঘর্ষিকও হয় রাজনৈতিক কারণে তাদের সাথে মিলে একাকার হয়ে যাবো আর অংশিদারিত্ব নিয়ে নেব। আমরা তো দি্ব্যি দেখতেছি অনেকে সংসদে অংশিদারিত্ব নিয়েও অস্তিত্ব নিয়ে বর্তমানে চরম সংকটে আছে। তাহলে তাঁরা যে নীতি বিসর্জন দিয়ে আল্লাহ তদীয় রাসুলের নিস্কলুষ নীতি থেকে কিছুটা স্খলিত হয়ে বিশাল কিছু অর্জন করে নিবেন তার গ্যারান্টি কি? মহান রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আল্লাহ প্রদত্ব নীতি থেকে বিন্দুমাত্র স্খলিত হন নাই তাই আল্লাহর সাহায্য সর্বদা অটুট ছিলো। আওলিয়ায়ে কিরাম ছরওয়ারে কায়েনাতের নীতিকে অনুসরন করে কারো সাথে নীতি বিবর্জিত সমঝোতা করেন নাই বিধায় তাঁরা বিশ্বকে জয় করতে পেরেছেন একমাত্র আল্লাহর অলৌকিক সাহায্য নিয়ে। আমাদের যক্তির শেষ নেই কিন্তু আসল কথা থেকে যুক্তিকে সামনে এনে আমরা অনেক দুরে সরে যাই। আমরা যখন আমাদের দিন দিন উন্নতি দেখি তখন ভাবি তাকে রাতারাতি শিখরে নিয়ে যেতে হবে যে করে হোক, শুরু হয় নীতি বিসর্জনের মহড়া। ভুলে যাই আসলসরল সঠিকপন্থা, শুরু হয় আমাদেরফ্যাশন শো তেমনিভাবে ধর্মীয় লেবাস রেখে বর্তমান যুগে অর্থনৈতক বিশাল তরক্বীও যেন আগুনের কয়লা হাতে রেখে চলার মতো। ধর্মকে ফ্যাশন শো হিসাবে সামনে রেখে তলে তলে আমরা সুদঘুষ, ধোঁকাবাজী, কমিশন খোরী সহ বহুবিদ নীতি বিবর্জিত কর্মে জড়িয়ে যাই। অন্যেরা আমাকে বাহবাহ দেয়, অমুক তমুক খুব বুদ্ধির ঢেঁকি, তর তর করে উন্নতি করছে আবার ধর্মীয় লিডারও। আমরা তার ফ্যাশন শো দেখি, অন্দরে গিয়ে ঘাঁটতে চাইনা তাই বিশ্বাসটা তার প্রতি অনেক বেড়ে যায়। অন্যের ধীরগতির চলাকে এবং উন্নতির ধীর গতিতে অগ্রসর হওয়াকে তুলনা করি। যারা সৎ পথে মতে চলতে চায় তাদেরকে বা তাদের বক্তব্যকে আমরা ভিন্নরূপ দিয়ে বিব্রত করতে পারদর্শী। বাহ্যিক ফ্যশন যে সব নয়, তা সবার জানা উচিৎ, আর যারা তা বুঝতে শিখবেনা তারা জ্ঞানী হয়েও অন্ধকারে বাস করছেন। আমাদের মুসলিমদের চরম অবনতির পেছনে ফ্যাশনেবল হওয়াটা খুব বেশি ভুমিকা রাখছে, সাথে ক্ষমতার লোভ, ক্ষমতার অপব্যবহার, সত্যমিথ্যা একাকার, ধনীর ভক্তিতে ধর্মীয় স্কলারদের চরম নির্লজ্জতা, পরস্পর হিংসা বিদ্বেষ, ঝগড়া মারামারি, ইসলাম যে মানবতার কথা বলেছে তার প্রতি চরম অবজ্ঞা ফলে খুনাখুনি সহ বহুবিদ সমস্যায় জর্জরিত। তাই বিধর্মী ইহুদি খ্রিষ্টান হিন্দু বৌদ্ধ সহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী রাষ্ট্রগুলো আজ মুসলমানদের পশুপাখির চেয়েও নিকৃষ্ট ভাবে এবং নিষ্ঠুর অস্ত্রের গুলি দিয়ে ধরাশায়ি করে। আমরা কেউ প্রতিবাদ করিনা শুধু ক্ষীনকায় ঈমান দিয়ে আফসোস করি আর ভয় পাই যে, যদি প্রতিবাদ করি তাহলে আমার অবস্থা ভায়ের মত হবে। আমাকে বেঁচে থাকতে হবে। এটা কি সত্য নয় যে, ধীরে ধীরে মুসলিমদের পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। হয়ত এমন সময় আসবে যে সে নিষ্ঠুর অস্ত্র আমার দিকে তাক হয়ে আছে আমি বুঝে উঠার আগে? আসুন আমরা ধর্মকে ধর্ম হিসাবে মানিফ্যাসন শোনয়। ধর্মে যা নির্দেশ আছে তাকে যথাযথ মর্যাদা দেই। ক্ষনিকের জিন্দেগিতে সব আরাম আয়েশ ভোগ থেকে বিরত থাকি। নিজের পরিবার পরিজনকে বেপর্দা থেকে বাঁচাই। জাহান্নামের চিরস্থায়ী অগ্নিতে জ্বলা থেকে বাঁচার চেষ্টা করি এবং পরিবারকে বাঁচাই। ইসলাম যেমন সত্য তেমনি তার সকল নির্দেশনাও সত্য সেগুলোকে যথাযথ মর্যাদা না দিলে এবং পালন না করলে মসজিদ মাদ্রাসা সহ ধর্মীয় উপশনালয় যত বাড়ুক আর মাদ্রাসায় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা যতই বাড়ুক নীতি স্খলিত হলে সবফ্যাসন শোতে পর্যবসিত হবে। আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান দান করুন, আমিন

লেখক: প্রাবন্ধিক।

আবুধাবিতে চার খুনে ১০ বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেপ্তার
১৪ এপ্রিল পবিত্র শবে মেরাজ