আজ: শনিবার ৭ই বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে এপ্রিল ২০১৯ ইং, ১৪ই শাবান ১৪৪০ হিজরী

বাতিল হলো পুঁজিবাজারের ৩৫ হাজার বিও হিসাব

মঙ্গলবার, ০৪/০৭/২০১৭ @ ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ । অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় শেয়ার বাজার

নিউজ ডেস্ক : বাতিল হয়ে গেছে প্রায় ৩৫ হাজার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স বা বিও হিসাব। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে নবায়ন না করায় সেসব হিসাব বাতিল হিসাবে গন্য হয়।

ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কোম্পানি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সূত্র জানায়, অনেক ব্রোকারেজ হাউস এখনও বাতিল বিও’র তালিকা সিডিবিএলে পাঠায়নি। সব তথ্য পেলে এর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হতে পারে। মূলত আইপিও বা প্রাইমারি মার্কেটে বিশেষ সুবিধা করতে না পারায় এসব হিসাব বন্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়মানুযায়ী জুন মাসে বিও ফি পরিশোধ না করতে পারায় সেসব হিসাব এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়। অনেক বিনিয়োগকারী মে মাসেই তাদের এ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার তথ্য হাউস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। সে কারণে মে মাসেই বাতিল হয়ে গেছে প্রায় ৭ হাজার বিও এ্যাকাউন্ট।

সিডিবিএলের দেয়া তথ্যমতে, এপ্রিলে মোট বিও হিসাব ছিল ২৯ লাখ ৬১ হাজার ৯৪৮টি। জুনের শেষে এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৯৩২টি।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিও নবায়নের শেষ সময় ছিল ৩০ জুন। তবে ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিনিয়োগকারীদের ২৫ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল। এরপরই হাউসগুলো থেকে বিও হিসাব বন্ধের তালিকা পাঠানো শুরু হয়। আর সর্বশেষ হিসাবে দেশের শেয়ারবাজারে মোট বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৯৩২টি। বর্তমানে যে সচল বিও রয়েছে এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারী ২৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩টি, প্রবাসী বাংলাদেশীদের ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৯টি এবং বিভিন্ন কোম্পানির ১১ হাজার ৪৯৮টি। এদিকে সচল বিও’র মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ২১ লাখ ৩১ হাজার ৭৪টি আর নারীদের বিও রয়েছে ৭ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫৮টি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বছর প্রধানত দুই কারণে অসংখ্য বিও বাতিল হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বাজারের মন্দা পরিস্থিতি, অন্যটি প্রাইমারি মার্কেট থেকে বিনিয়োগকারীদের সুবিধা না পাওয়া। তবে এ বছর বিও বাতিল হওয়ার জন্য প্রাইমারি মার্কেটের নাজুক পরিস্থিতিকে দায়ী করেন তারা, যে কারণে বিনিয়োগকারীরা অনেক হিসাব বন্ধ করে দিয়েছেন।

সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ডিপোজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা ২০০৩-এর তফসিল-৪ অনুযায়ী, বিও হিসাব পরিচালনার জন্য ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারী বা বিনিয়োগকারীকে নির্ধারিত হারে বার্ষিক হিসাবরক্ষণ ফি দিয়ে হিসাব নবায়ন করতে হয়।

এর আগে পঞ্জিকাবর্ষ হিসাবে প্রতি বছরের ডিসেম্বরে এ ফি জমা নেয়া হতো। তবে ২০১০ সালের জুন মাসে বিএসইসি বিও হিসাব নবায়নের সময় পরিবর্তন করে বার্ষিক ফি প্রদানের সময় জুন মাস নির্ধারণ করে। এ সময়ে বিও নবায়ন ফি ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়। এরপর বিএসইসির জারি করা ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল এক সার্কুলারে ৩০ জুনের মধ্যে বিও হিসাব নবায়নের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। না হলে তা বাতিল করা হবে বলে ওই সার্কুলারে বলা হয়েছিল।

২০১০ সালের পর থেকে নবায়ন না করায় প্রতি বছর লাখ লাখ বিও এ্যাকাউন্ট বাতিল হচ্ছে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সময়মতো বিও ফি না দেয়ায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এসব এ্যাকাউন্ট।

তবে যেসব এ্যাকাউন্টে শেয়ার আছে অথবা টাকা জমা আছে, ওই এ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেয়া হয়েছে।

জাপা এখন আর গৃহপালিত বিরোধীদল নয় : এরশাদ
বিএনপির মতো ‘অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়তে চান না’ কাদের