আজ: বুধবার ৩০শে কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং, ৫ই রবিউল-আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

প্রিপেইড মিটারে আসছে কর্ণফুলী গ্যাস

বৃহস্পতিবার, ২৭/১০/২০১৬ @ ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ । চট্টগ্রাম

 নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামে গ্যাসের প্রিপেইড মিটারের প্রথম পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এবং খুলশী আবাসিক এলাকা থেকে। আগামী বছরের প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পে তিন হাজার প্রিপেইড মিটার বসানো হবে। পর্যায়ক্রমে নাসিরাবাদ, খুলশী, চান্দগাঁও, চকবাজারসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ৬০ হাজার আবাসিক গ্রাহকের মাঝে মিটার লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। সরকার ও জাপানি সহযোগিতা সংস্থা- জাইকার যৌথ অর্থায়নে এই প্রকল্পে খরচ হবে ২৪৬ কোটি টাকা। গ্যাসের প্রিপেইড মিটার প্রকল্পটির নাম ‘ন্যাচারাল গ্যাস ইফিসিয়েন্সি প্রজেক্ট’। চট্টগ্রামে গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে থাকা সংস্থা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে। গ্যাসের প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকদের বর্তমান বিল থেকে কম আসবে। গ্রাহক বান্ধন হবে প্রিপেইড মিটার। গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে কমছে মজুদ। অন্যদিকে বাসাবাড়ি, কল-কারখানায় অপচয় হচ্ছে গ্যাস। তাতে বাড়ছে সংকট। তবে ব্যবহারে অপচয় ঠেকানো এবং গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতেই চট্টগ্রামে বসছে গ্যাসের প্রিপেইড মিটার। প্রথম পর্যায়ে ৬০ হাজার আবাসিক গ্রাহককে আনা হবে এই কার্যক্রমের আওতায়। পর্যায়ক্রমে মিটার পাবেন সব গ্রাহক।

গ্যাসের প্রিপেইড মিটারের ব্যাপারে এই প্রকল্পটির পরিচালক কর্ণফুলী গ্যাসের প্রকৌশলী খায়ের আহমদ মজুমদার জানান, গ্যাসের প্রিপেইড মিটার বসানোর জন্য জাপানি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জাইকা, আইন মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের অনুমোদনের জন্য আমরা পাঠিয়েছি। জাইকার কাছে চলতি মাসের ৫ তারিখ এবং আইনমন্ত্রণালয় এবং এনবিআরে ১২ অক্টোবর পাঠিয়েছি। এই তিন জায়গা থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর ঠিকাদারের সাথে চুক্তি হবে। আগামী বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে অথবা ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে মিটার বসানোর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী খায়ের আহমদ মজুমদার বলেন, প্রিপেইড মিটার হবে গ্রাহক বান্ধব। যতটুকু গ্রাহক বান্ধব করা যায়- সবটুকুই আমরা করবো। বর্তমানে দুই চুলার জন্য একজন গ্রাহককে সাড়ে ছয়শ’ টাকা করে বিল দিতে হচ্ছে। প্রিপেইড মিটার বসানো হলে এক মিটারে ৪০০ টাকার বেশি আসবে না। কার্ডটি হবে স্মার্ট কার্ডের মতো। কার্ডে একজন গ্রাহক ২০০ টাকা থেকে ইচ্ছে মতো রিচার্জ করতে পারবেন। কেউ যদি মনে করেন তিনি কার্ডে ২ হাজার টাকাও ঢুকিয়ে রাখতে পারবেন। কার্ডটি মিটারের সামনে ধরলেই অটো রিচার্জ হয়ে যাবে। প্রথমে নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এবং খুলশী থেকেই পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। গ্রাহকদের কার্ড রিচার্জের জন্য আমরা ব্যাংকে বুথ করবো। এছাড়াও আমাদের অফিসেও কার্ড রিচার্জের বুথ থাকবে। গ্রাহকরা ইচ্ছে মতো কার্ড রিচার্জ করতে পারবেন। এছাড়াও বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মতো গ্যাসের ক্ষেত্রেও কার্ডের টাকা শেষ হয়ে গেলে গ্রাহকরা একদিন গ্যাস ব্যবহার করতে পারবেন। পরদিন কার্ড রিচার্জ করার সাথে সাথে ঐ টাকা কেটে নেয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন গ্যাস ব্যবহারে শৃঙ্খলা আসবে, অন্যদিকে সম্ভাবনা তৈরী হবে নতুন সংযোগ দেয়ার। চট্টগ্রামে আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলে গ্যাসের গ্রাহক আছে প্রায় ছয় লাখ। আর নতুন সংযোগের জন্য আবেদন জমা আছে বিশ হাজারেরও বেশী। প্রকল্প অফিস থেকে জানা গেছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকা দেবে ১৫৪ কোটি টাকা, বাকিটা সরকার ও কর্ণফুলীর তহবিল থেকে ব্যয় হবে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়। ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ আছে। সূত্র : দৈনিক আজদী।

সেনবাগে বিদ্রোহী ও দলীয় কোন্দলে বিপাকে আওয়ামীলীগ
নন্দিত ইতিহাস গবেষক আবদুল হক চৌধুরী স্মরণে