আজ: শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং, ৮ই রবিউল-আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

খুলনার ২৪টি লবণ মিল বন্ধ

শুক্রবার, ১৭/০৬/২০১৬ @ ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ । অর্থ ও বাণিজ্য জনপদের খবর জাতীয়

 নিউজ ডেস্ক : ভারতীয় লবণের দাপট এবং পুঁজি সংকটের কারণে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না খুলনার সম্ভাবনাময় লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।

অসম এই প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ইতিমধ্যেই খুলনার ২৪টি লবণ মিল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার শ্রমিক। কোনোরকম চালু থাকা আটটি মিলও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

সূত্র জানায়, শিল্প নগরী খুলনায় এক সময় লবণ মিল ছিল ৩২টি। কিন্তু বর্তমানে সে সংখ্যা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে আটটিতে। আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় নিম্নমানের লবণ চোরাই পথে প্রবেশের কারণে দেশি লবণ মার খাচ্ছে, মিলগুলোও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শেষে টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক মিল। খুলনা লবণ মিল মালিকদের অভিযোগ, চাহিদামত ব্যাংক ঋণ না পাওয়া এবং ভারত থেকে চোরাই পথে লবণ আসায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রের মতে, কক্সবাজার থেকে নদীপথে ক্রুড লবণ আসায় খুলনার রূপসা আর ভৈরব নদের তীরে প্রতিষ্ঠিত হয় বেশ কয়েকটি লবণ মিল। ১৯৯৯-২০০৩ সাল পর্যন্ত যার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩২টিতে উন্নীত হয়। বৃহত্তর পরিসরে দেশের প্রথম আয়োডিনযুক্ত লবণ কারখানা চালু করে খুলনার সুন্দরবন সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ। যারা দেশের বাজার ছাড়াও বিদেশে লবণ রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু সেই সুন্দরবন সল্টও ৬/৭ বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে।

সুন্দরবন সল্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আজিজুর রহমান বলেন, ‘নতুন করে আয়োডিনের প্রযুক্তি স্থাপনের সময় ব্যাংক তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ সঠিক সময় সরবরাহ না করা এবং চোরাই পথে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় লবণের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মিলটি বন্ধ হয়ে যায়।এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিল।’

খুলনা লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি আনিল পোদ্দার জানান, কক্সবাজার থেকে পরিবহন খরচ দিয়ে খুলনায় আনার পর ৭৬ কেজির এক বস্তা ক্রুড লবণের দাম পড়ে ৯শ’ থেকে ১১শ’ টাকা। সেখানে ৮২ কেজির এক বস্তা ভারতীয়  লবণের দাম পড়ে মাত্র ৪৫০ টাকা। বস্তাপ্রতি দামের এত হের-ফেরের কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় লবণ দেশে প্রবেশ করছে। ফলে সরকার একদিকে যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি আয়োডিনবিহীন লবণ দেশে প্রবেশ করছে।

তিনি জানান, চোরাই পথে লবণ আসা দ্রুত বন্ধ করার  জন্য খুলনা লবণ মিল মালিক সমিতির পক্ষ থেকে খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, বিসিক, বিজিপি ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে পত্র দেওয়া হয়েছে।

খুলনা লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিউদ্দিন বাবলা জানান, কক্সবাজার এলাকার কিছু দালালচক্র সিন্ডিকেট করে লবণ চাষিদের কাছ থেকে আগেই লবণ কিনে নেয়। তারপর তারা নিজেদের ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে। এ ছাড়া আমদানি নিষিদ্ধ থাকার পরও চোরাই পথে ভারত থেকে লবণ আসছে। তিনি বলেন, লবণ আমদানির সুযোগ থাকলে দেশে লবণের দাম অনেক কমে যেত এবং আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহারও নিশ্চিত হতো।

তিনি জানান, কক্সবাজার থেকে বস্তা দেওয়া হয় ৭৬ কেজির, যা শোধন করলে ৬৬ কেজির বেশি পাওয়া যায় না। আর ভারতীয় লবণের বস্তায় লবণ থাকে ৮২ কেজি,  যা শোধন করলে ৭৫ কেজিরও বেশি পাওয়া যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, লবণ আমদানি উন্মুক্ত করে দিলে দেশে খুব সস্তায় আয়োডিনযুক্ত উন্নত মানের লবণ পাওয়া যাবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ মোরশেদ আলী বলেন, ‘প্রায়ই আয়োডিনবিহীন লবণ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। চোরাই পথে আসা লবণ খুলনার  দৌলতপুর, চুকনগর ও তেরখাদাসহ বিভিন্ন্ বাজার থেকে আটক করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়।’

লবণ মিল মালিক সমিতির অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিষয়টি জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে চোরাই পথে ভারতীয় লবণ প্রবেশ রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আমেরিকা থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফেরাতে জোর লবিং চলছে
মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট