আজ: মঙ্গলবার ৮ই শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুলাই ২০১৯ ইং, ১৯শে জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী

সংশোধনের আশাবাদ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের
মূলধন সংরক্ষণের ওপর করারোপ

বুধবার, ২৬/০৬/২০১৯ @ ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ । অর্থ ও বাণিজ্য

নিউজ ডেস্ক: আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংকের মূলধন সংরক্ষণ ও রিজার্ভের ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের স্বার্থে অর্থমন্ত্রী এ প্রস্তাব সংশোধন করবেন আশাবাদ ব্যক্ত করে ব্যাংক উদ্যোক্তারা বলেছেন, করারোপের এ প্রস্তাবে সংশোধন না আনলে ব্যাংকিং খাত বড় ধরনের বেকায়দায় পড়ে যাবে।

মঙ্গলবার ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) বৈঠকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ব্যাংক উদ্যোক্তারা। বিএবি সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে সব বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, যেখানে ব্যাংকগুলোর ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নীতিসহায়তা দেবে, তা না করে ব্যাংকিং খাতকে দুর্বল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর এরই অংশ হিসেবে মূলধন সংরক্ষণের ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেয়া একজন চেয়ারম্যান জানান, সব ব্যাংকের চেয়ারম্যানরা এ নিয়ে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে বেসরকারি একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান (যিনি সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি) এ নিয়ে অন্য চেয়ারম্যানদের উদ্বেগ প্রকাশ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন প্রস্তাবটি সংশোধন করে দেয়ার। এ কারণে বিএবির পক্ষ থেকে মূলধন সংরক্ষরণে করারোপের ওপর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হবে না।

প্রসঙ্গত, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংকের মূলধন সংরক্ষণের ওপর ১৫ শতাংশ করের বোঝা চাপানো হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানির কোনো আয় বছরে রিটেইন আর্নিংস, রিজার্ভ ইত্যাদির সমষ্টি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলে, বেশিটুকুর ওপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ কর প্রদান করতে হবে। একই সাথে শেয়ারহোল্ডারদের নগদে লভ্যাংশ দেয়ার পরিবর্তে বোনাস শেয়ার দিলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বোনাস শেয়ারের ওপর ১৫ শতাংশ কর প্রদান করতে হবে।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ব্যাংক খাতে এ সিদ্ধান্তে বড় ধরনের চাপ আসবে। বর্তমানে সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোর সঙ্কট আরো বাড়বে। তারা জানিয়েছেন, অন্য কোম্পানিগুলোর সাথে ব্যাংকগুলোকে এক করা ঠিক হবে না। ব্যাংকগুলো জনগণের আমানত নিয়ে কারবার করে। জনগণের আমানত সুরক্ষা করতে ব্যাংকগুলোর মূলধন বা ভিত্তি শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। কিন্তু মূলধন সংরক্ষণের ওপর করের বোঝা চাপানো হলে দেশের ব্যাংক খাত আরো বেকায়দায় পড়ে যাবে। জনগণের আমানত সুরক্ষা হওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকির মুখে পড়ে যাবে।

তারা বলেছেন, যেসব ব্যাংকের আর্থিক সঙ্কট নেই তারা বোনাস শেয়ারের পরিবর্তে নগদে লভ্যাংশ দিলে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু যেগুলো সমস্যায় আছে তাদের ওপর চাপ বাড়বে। তাদের তহবিল সঙ্কট আরো বেড়ে যাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে বেশি বেকায়দায় ফেলবে মূলধন সংরক্ষণের ওপর কর বসানোতে। কারণ আমানতকারীদের স্বার্থে সব ব্যাংকের মূলধন বাড়াতে হয়। যে ব্যাংকের মূলধন যত বেশি ওই ব্যাংকের ভিত্তি তত শক্তিশালী, ঝুঁকি তত কম। কিন্তু এই মূলধন সংরক্ষণের ওপর করারোপ করায় সব ব্যাংকই কমবেশি সমস্যায় পড়ে যাবে। এটা সংশোধন হওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকিং খাতে অবলোপন বাদেই খেলাপি ঋণ এখন পাহাড় সমান। এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা এ খেলাপি ঋণ। এর বাইরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার মন্দমানের খেলাপি ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ব্যাংকেরই কমবেশি খেলাপি ঋণ বেড়েছে। খেলাপি ঋণের প্রায় ৯০ শতাংশই মন্দ ঋণ। আর এ মন্দ ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। এ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয় ব্যাংকগুলোর মুনাফা থেকে। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দার কারণে বেশির ভাগ ব্যাংকেরই মুনাফা আগের বছরের চেয়ে কমে গেছে। এর ফলে মন্দ ঋণের বিপরীতে অনেক ব্যাংকই কাক্সিক্ষত হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারছে না। প্রভিশন সংরক্ষণ করার মতো পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি বাড়ছে।

এরপরেও পুঁজিবাজারের স্বার্থে কিছু কিছু ব্যাংকের প্রভিশন সংরক্ষণের জন্য এক বছর সময় দেয়া হয়েছে। একই সাথে ব্যাংকগুলোকে বোনাস শেয়ার দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কারণ কিছু ব্যাংক নগদে লভ্যাংশ দিয়ে মূলধন হারাচ্ছে। এ কারণে তাদের বোনাস শেয়ার দেয়ার অনুমোদন করা হয়। কিন্তু এখন প্রস্তাবিত বাজেটে বোনাস শেয়ারের ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করায় ব্যাংকগুলোর নগদ টাকার সঙ্কট আরো বেড়ে যাবে। এমনিতেই প্রভিশন সংরক্ষণের মতো পর্যাপ্ত অর্থ তাদের হাতে নেই। এর ওপর করারোপ করা হলে ব্যাংকগুলোর সঙ্কট আরো বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা গতকাল জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার অনুমোদন কোনোভাবেই ঠিক হবে না। কারণ ব্যাংকগুলো সঠিক উপায়ে খেলাপি ঋণ নবায়ন করছে না।

এর ফলে যথাযথভাবে প্রভিশন সংরক্ষণ করছে না। এতে বাড়ছে মুনাফা। এ মুনাফার ওপর ভর করে নগদে মুনাফা দেয়ার অনুমোদন দেয়ার অর্থ সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ কারো পকেটে চলে যাওয়া। এটা বন্ধ না করতে পারলে সামনে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়াই ব্যাংকের কষ্টকর হয়ে পড়বে। এতে আস্থার সঙ্কট দেখা দেবে ব্যাংকিং খাতে, যা ব্যাংকিং খাতকে বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেবে। এ পরিস্থিতিতে বোনাস শেয়ার দেয়ার অনুমোদন দেয়া যেতে পারে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাই করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ব্যাংক কোম্পানির সাথে অন্য কোম্পানির আইন এক করা ঠিক হবে না।

কারণ ব্যাংকগুলো জনগণের আমানত নিয়ে কারবার করে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জনগণের আমানত সুরক্ষা করতে নীতিপ্রণয়ন করে। জনগণের আমানত সুরক্ষা করতে ব্যাংকগুলোর মূলধন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এখন মূলধন বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো নীতি প্রতিবন্ধকতা হলে ব্যাংক খাত সমস্যায় পড়বে। জনগণের আমানত সুরক্ষা হওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ কারণে প্রস্তাবিত বাজেটে বোনাস শেয়ারের ক্ষেত্রে ও মূলধন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যে করারোপ করা হয়েছে তা থেকে ব্যাংকগুলোকে বাইরে রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। খবর: নয়া দিগন্ত।

চুয়েটে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা
ঠাকুরগাঁওয়ে এসটিসি ব্যাংকের উদ্বোধন
Free Download WordPress Themes
Premium WordPress Themes Download
Free Download WordPress Themes
Premium WordPress Themes Download
online free course
download coolpad firmware
Download Best WordPress Themes Free Download
online free course

সর্বশেষ ১০ খবর