আজ: মঙ্গলবার ৮ই শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুলাই ২০১৯ ইং, ১৯শে জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী

লাইফ সাপোর্টে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ

রবিবার, ৩০/০৬/২০১৯ @ ৬:৫৬ অপরাহ্ণ । জাতীয় রাজনীতি শীর্ষ খবর

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) এমপি বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। তিনি বর্তমানে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে এরশাদের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ ব্রিফিংকালে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি এ কথা বলেন। এসময় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সুনীল শুভ রায়, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, এ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, ভাইস চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আহমেদ, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, জহিরুল আলম রুবেল, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়, মনিরুল ইসলাম মিলন, আদেলুর রহমান এমপি, এস.এম. ইয়াসির, কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুল আহসান শাহজাদা, মাতলুব হোসেন লিয়ন, মোঃ হেলাল উদ্দিন, মাহামুদা রহমান মুন্নি, এম.এ. রাজ্জাক খান, কাজী আবুল খায়ের, এম.এ. সাত্তার, মাখন সরকার, এনাম জয়নাল আবেদীন, মিজানুর রহমান দুলাল, ফজলে এলাহী সোহাগ, এ্যাড. আবু তৈয়ব, মোঃ মিজানুর রহমান, এস.এম.এম. সেলিম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জিএম কাদের বলেন, এর আগে শনিবার পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার ৫০ শতাংশ উন্নতি হয়েছিল। গতকাল রোববার সকালে এরশাদের শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া হয়েছে। ফুসফুসে পানি জমার কারণে সকাল থেকেই তার কিছুটা শ্বাস কষ্ট হচ্ছিলো। ফুসফুসে পানি চলে এসেছে, দেখা দিয়েছে ইনফেকশন। ওষুধের পরিবর্তন করে তার ইনফেকশন বন্ধের চিকিৎসা চলছে।

গত ২৭ জুন সকালে পল্লীবন্ধু এরশাদ অসুস্থ্যবোধ করলে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। পল্লীবন্ধুর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে কিছু সংক্রমণের চিকিৎসা চলছে। তিনি বলেন, সিএমএইচ-এর চিকিৎসকরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে পল্লীবন্ধুর চিকিৎসা দিচ্ছেন। চিকিৎসকরা মনে করছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চিকিৎসা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেই সম্ভব। তবে, চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য পৃথিবীর যে কোন দেশেই পাঠানোর প্রস্তুতি আছে আমাদের।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত আছে তবে তা চিকিৎসকদের নির্দেশনার উপর নির্ভর করছে। এ মুহূর্তে সিএমএইচের চিকিৎসায় আমাদের আস্থা আছে। ভাইয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে বলে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন। তিনি বলেন,মিডিয়াতে প্রচার হয়েছে অর্থের অভাবে পার্টির চেয়ারম্যানের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না এটা সম্পূর্ণ ভুল। আমার যা কিছু আছে সর্বস্ব দিয়ে হলেও ভাইকে সুস্থ করার জন্য আমি ব্যয় করতে প্রস্তুত। তা ছাড়া তিনি তো এখনো সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। সাবেক রাষ্ট্রপতি সাবেক সেনাপ্রধান তার চিকিৎসার অর্থ রাষ্ট্রও দেবে।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চিকিৎসার সকল ব্যয় এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে বহন করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরশাদ সব সময় সিএমএইচ-এর চিকিৎসায় আস্থা রেখেছেন। আমরাও সিএমএইচ-এর চিকিৎসায় সন্তুষ্ট। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের রোগমুক্তি ও সুস্থ্যতা কামনায় দেশবাসীর প্রতি দোয়া কামনা করেছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেন, বাজেট অধিবেশনে পল্লীবন্ধুর চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে তার বক্তব্য ভূলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর তাকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করতে ঐ সময় বিএনপি সরকার দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়োজিত করেছিলো। কিন্তু তারা পল্লীবন্ধুকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। পল্লীবন্ধু কখনই দুর্নীতি করেননি। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা তাদের শেষ সম্বল বিক্রি করে এরশাদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরোধীদলীয় নেতাকে দেখে এবং সিএমএইচের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ করে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন রওশন এরশাদ। তখন তাদের ছেলে রাহ্গীর আল মাহে এরশাদ ওরফে সাদ এরশাদ তার সঙ্গে ছিল।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর ইমানুয়েল কনভেনশন সেন্টারে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সামনে সবশেষ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য রাখেন এরশাদ। এরপর অসুস্থতার কারণে আর কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি তিনি। ৬ ডিসেম্বর গাড়িতে করে অফিসের সামনে এলেও সেখানে বসে কথা বলেই চলে যান। ১০ ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান এরশাদ। ভোটের মাত্র ৩ দিন আগে ২৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরলেও নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে যোগ দেননি। এমনকি নিজের ভোটও দিতে যেতে পারেননি সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। ভোটের পর শপথ নেন আলাদা সময়ে গিয়ে। সেদিনও স্পিকারের কক্ষে হাজির হয়েছিলেন হুইল চেয়ারে বসে। ২০ জানুয়ারি ফের সিঙ্গাপুরে যান চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে ফেরেন ৪ ফেব্রুয়ারি। তবে এখনও কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায়নি। সংসদ অধিবেশনে মাত্র একদিনের জন্য হাজির হয়েছিলেন তাও হুইল চেয়ারে ভর করেই।

পরিবর্তন ছাড়াই ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট পাস
গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি: তীব্র আন্দোলনের হুমকি মির্জা ফখরুলের
Download WordPress Themes
Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download Best WordPress Themes Free Download
free online course
download micromax firmware
Download Nulled WordPress Themes
udemy course download free

সর্বশেষ ১০ খবর