আজ: শুক্রবার ১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে মে ২০১৯ ইং, ১৮ই রমযান ১৪৪০ হিজরী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জুতা আবিষ্কার ও ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণে ইউ টার্ন

সোমবার, ২০/১১/২০১৭ @ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ । চট্টগ্রাম ফিচার

 ==== অধ্যাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী=====

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জুতা আবিস্কার’ কবিতার মুল কথা হচ্ছে, রাজার পায়ে মলিন ধুলা না লাগার ব্যাপারে কার্যকর পন্থা বের করতে হবে।

সেজন্য মন্ত্রী ও জ্ঞানী লোকেরা বসে সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যব্যাপী ঝাড়– দিল। এতে ধূলোয় আকাশ ডেকে গেল, দিনের বেলায়ও সূর্য দেখা যাচ্ছিল না কিন্তু সমস্যার কোন সমাধান হলো না। তাই আবার পানি সেচে ধূলা দূর করার সিদ্ধান্ত হল। এতে নদ নদী শুকিয়ে গেল, ডাঙ্গা ডুবে গেল কাদায়। তাতেও সমাধান না হওয়ায় চামড়া দিয়ে দুনিয়াটা ডেকে দিতে সিদ্ধান্ত হলো কিন্তু এত চামড়া কোথায় পাওয়া যাবে। তাছাড়া ফসল ফলবে কোথায়? সব চেষ্টা যখন ব্যর্থ তখন সামান্য একজন মুচি তার সমাধান দিল অতি সহজেই। সে চামড়া দিযে রাজার পা দু‘টো ডেকে দিয়ে মলিন ধূলা না লাগার ব্যবস্থা করে দিল।

আমাদের দেশে ট্রাফিক জ্যাম একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যার কারনে কোটি কোটি শ্রম ঘন্টা, কোটি কোটি টাকার জ্বালানী নষ্ট হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকার ফ্লাইওভার নির্মাণ করে এবং হাজার হাজার ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ করেও কাঙ্খিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। অদূর ভবিষ্যতে হবে কিনা সবাই সন্দিহান ছিল।

এই সমস্যার সমাধানের জন্য এক সময় চৌরাস্তার মধ্যখানে ট্রাফিক দাড়িয়ে গাড়ীর চলাচল নিয়ন্ত্রন করত। পরে লাল, হলুদ ও সবুজ বাতির মাধ্যমে আরো পরে সেটাকে অটো সিস্টেম করে যানবাহনের নিয়ন্ত্রন এবং যানবাহনের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এখন সিগন্যাল লাইট বাদ দিয়ে আমাদের দেশে আবারও পুরানো কায়দায় হাতের ইশারায় জ্যাম নিয়ন্ত্রনের কাজ চলছে। ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা দ্বিগুন তিনগুন বৃদ্ধি করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক কালে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ফ্লাইওভার নির্মাণ করেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। বিশেষ করে ব্যাপক বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্তি নৈরাশ্যজনক। তবুও সরকারের মাথা ব্যাথার শেষ নেই, কারণ এটা মানুষের গতিশীলতাকে স্থবির করে ফেলেছে। একজন মানুষের দৈনন্দিন যেখানে ৩/৪টা কাজ করার কথা সেখানে যোগাযোগ সমস্যার কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একটি কাজ করাও মুশকিল হয়ে পড়েছে।
সরকারী বড় বড় উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরাও এই সমস্যার সমাধান নিয়ে ভাবছে। তাদের হাতে প্রযুক্তি নেই, নেই অর্থ, তবুও ভাবনার শেষ নেই অথচ তারাই জুতা আবিস্কারের মত অতি সহজ সরল অথচ এক যুগান্তকারী সমাধান বের করল যা ট্রাফিক জ্যাম নিরসনে বড় ধরনের ভুমিকা রাখতে পারে, সে খবর বিভিন্ন বিদেশী জার্নালে ফলাও করে প্রচার হয়েছে। সে পদ্ধতির নাম ‘ইউ টার্ন’। কামরুল হাসান এবং আসাদুর রহমান মোল্লা পৃথক পৃথক ভাবে এই উদ্ভাবনের দাবীদার। বিশেষজ্ঞ মহল এ ব্যাপারে খুবই আশাবাদী।
সাধারণ ট্রাফিক সিস্টেমে যে কোন গাড়ী বাম দিকে চলার জন্য বাম দিকের পথ উন্মুক্ত থাকে। সমস্যা হচ্ছে সামনের দিকে এবং ডানে চলা। ইউ টার্ন এ সমস্যার সমাধান দিতে পারে। ইউ টার্নে চর্তুমুর্খী রাস্তাকে দ্বিমূখী করা হয়। এতে সোজা চলতে বাধা থাকে না। আর সোজা চলার কালে আস্তে আস্তে ডানে মধ্যের ডিভাইডার ঘেঁষে চলতে চলতে ডানে খোলা জায়গা দিয়ে মধ্যের ডিভাইডার ঘেষে আবার একই দিকে ইউ টার্ণে চলে সোজা অথবা বামে চলে যেতে পারে। এটাই ‘ইউ টার্ণ’ এর মূল বিষয়।
সুতরাং ইউ টার্ন পদ্ধতি প্রয়োগের সাথে সাথে বাম পাশের পথ ক্লিয়ার রেখে এবং মোড়ে গাড়ী না দাড়িয়ে যদি মোড় থেকে ১০০/১৫০ ফুট দূরে যাত্রী ছাউনী বা ষ্টেশন করা হয় তাহলে ট্রাফিক জ্যাম থাকতে পারে না।

দৃশ্যপট জি.ই.সি মোড়ঃ
জি.ই.সি মোড়ে বর্তমান সিষ্টেমে বাম দিকে গাড়ী চলতে কোন সমস্যা নেই, সমস্যা বিরতিহীনভাবে সোজা এবং ডানে চলা। জি.ই.সি মোড়ের চতুর্মূখী রাস্তাটিকে দ্বিমুখী করতে হবে। অর্থাৎ এশিয়ান হাইওয়েকে ডাইরেক্ট করতে হবে। এতে গাড়ী সোজা চলতে আর বাঁধা থাকবে না। ডানে চলার জন্য সিএন্ডবি কলোনী ও নার্সারীর সামনে অথবা সুবিধাজনক জায়গায় ইউ টার্ন সিস্টেম চালু করা যায়। যে গাড়ীগুলো ২নং থেকে ওয়াসার দিকে যাওয়ার পথে এম.ই.এস কলেজ বা অন্যত্র যাওয়ার জন্য ডানে যেতে চাইলে সে গাড়ীগুলো ক্রমশ ডানে ডিভাইডার ঘেষে যেতে যেতে খোলা রাস্তা দিয়ে ইউ টার্ন ব্যবহার করে ইউটার্ন হয়ে সোজা ২ নং এর দিকে ক্রমশ যেতে যেতে বাম দিক হয়ে এমইএস কলেজের দিকে যেতে পারবে। ওয়াসার দিক থেকে ২ নং এর দিকে চলমান গাড়ীগুলো ডানদিকে যেতে চাইলে ক্রমশ মধ্য ডিভাইডার ঘেষে ঘেষে চলতে চলতে ইউ টার্ন ব্যবহার করে ইউ টার্ণ হয়ে ওয়াসার দিকে চলতে গিয়ে ক্রমশ বামে গিয়ে সহজে মেহেদীবাগে যেতে হবে।
জি.ই.সি মোড়ের উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিমের বাম পাশের পথ ক্লিয়ার রেখে ১০০/১৫০ ফুট দূরে দূরে স্টেশন করা যায় তাহলে জি.ই.সি মোড়ে জ্যাম থাকতে পারে না। পরীক্ষামূলকভাবে এটার কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে প্রশাসনের অতিরিক্ত টাকা, অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ কিছুই লাগবে না। আশা করি অন্ততঃ একবার এই একটি মোড়ে প্রশাসন তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করবে।

জ্যাম নিরসনে এই সহজ সরল এবং স্বল্পব্যয়ী ইউ টার্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করলে কোটি কোটি শ্রম ঘন্টা কাজে লাগিয়ে, হাজার হাজার কোটি টাকার জ্বালানী সাশ্রয় করে এবং হাজার হাজার ট্রাফিক পুলিশ অন্যত্র কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য গতিশীলতা আসতে পারে এবং উন্নত ও গতিশীল পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
অধ্যাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী,কলামিষ্ট ও সমাজকর্মী  

‘তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বপ্ন দেখছে জনগণ’
হাটহাজারীতে নিখোঁজ আ’মীলীগ নেতার লাশ উদ্ধার, স্ত্রী আটক
Download WordPress Themes Free
Download Best WordPress Themes Free Download
Download WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
online free course
download coolpad firmware
Download WordPress Themes
free online course

সর্বশেষ ১০ খবর