আজ: মঙ্গলবার ৮ই শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুলাই ২০১৯ ইং, ১৯শে জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী

পুলিশ হেফাজতে ডিআইজি মিজান

সোমবার, ০১/০৭/২০১৯ @ ৫:৫৯ অপরাহ্ণ । আইন-অপরাধ জাতীয় দিনের সেরা শীর্ষ খবর

নিউজ ডেস্ক: পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় আনা হয়েছে। সোমবার বিকেলে তাকে আনা হয়। মঙ্গলবার তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হবে। এর আগে হাইকোর্টে জামিন নিতে গেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চের নির্দেশে আজ বিকেলে ৫টা ৫৫ মিনিটে পুলিশি প্রহরায় তাকে শাহবাগ থানায় আনা হয়।

জামিন আবেদনের শুনানি শেষে আদালত বলেন, তিনি (ডিআইজি মিজান) পুলিশের ভাবমূর্তি ধ্বংস করে দিয়েছেন। আমরা তাকে পুলিশের হাতে দিয়ে দিচ্ছি।

এর পর আদালতের আদেশটি কোর্ট প্রশাসন শাহবাগ থানাকে জানালে পুলিশের রমনা বিভাগের একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান হাইকোর্টে আসেন।

প্রসঙ্গত, এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠায় গত বছর জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ডিআইজি মিজানুর রহমানকে। তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে থাকা এক দুদক কর্মকর্তাকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার কথা নিজেই ফাঁস করে দিয়ে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় আসেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর মিজান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ভাগ্নে মাহমুদুল হাসান এবং ছোট ভাই মাহবুবুর রহমানকে আসামি করে গত ২৪ জুন এই মামলা দয়ের করেন দুদকের পরিচালক মনজুর মোরশেদ।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা -১ এ দায়ের করা এ মামলায় তিন কোটি সাত লাখ ৫ হাজার ২১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।

মিজানের পক্ষে হাইকোর্টে শুনানি করেন আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন মেহেদী। দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাফি আহমেদ শুনানি করেন।

শুনানি শেষে জামিন নাকচ করে হাইকোর্ট আদালতে উপস্থিত মিজানকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালতে হাজির করতে বলা হয়।

জিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছিলেন দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। অনুসন্ধানকালে তিনি কয়েক দফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ডিআইজি মিজানুর রহমান। তিনি একটি অডিও ফাঁস করেন। যেখানে ডিআইজি মিজান ও এনামুল বাছিরের কথোপকথন রয়েছে। এ অভিযোগের পর কমিশন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ডিআইজি মিজানুর রহমান ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত জানুয়ারির শুরুর দিকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। তখন তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। মিজানুরের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি রয়েছে।

এরপর তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বছরের ৩ মে অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ডিআইজি মিজানকে দুদক কার্যালয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মিজানুর রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী সোহেলিয়া আনারের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। মিজানুরের নামে ৪৬ লাখ ৩২ হাজার ১৯১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৭২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫২ টাকার অসংগতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। তদন্ত শুরু হওয়ার এক বছরের মাথায় দুদক পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার এই অভিযোগ উঠে।

ডিআইজি মিজানের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের সঙ্গে তার চুক্তি ছিল টাকার বিনিময়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন। তবে টাকা নিয়েও শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দেন বাছির। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অবৈধ লেনদেনের এই ঘটনা ফাঁস করেন ডিআইজি মিজানুর রহমান। তার অভিযোগ আমলে নিয়ে এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এদিকে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিন কোটি ২৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজানুর রহমান ও তার পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে ২৪ জুন সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ এই মামলা দায়ের হয়েছে। দুদক পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার বাকি আসামিরা হলেন, মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান স্বপন ও ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান। ওই মামলায়ই ডিআইজি মিজান গতকাল হাইকোর্টে গিয়েছিলেন আগাম জামিন নিতে।

শঙ্কামুক্ত নন এরশাদ
জয়পুরহাটে ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
Download WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Premium WordPress Themes Download
Premium WordPress Themes Download
online free course
download intex firmware
Download WordPress Themes Free
free online course

সর্বশেষ ১০ খবর