আজ: রবিবার ৬ই শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১শে জুলাই ২০১৯ ইং, ১৬ই জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী

পাকিস্তানকে ৮৯ রানে হারিয়ে ভারতের দুর্দান্ত জয়

সোমবার, ১৭/০৬/২০১৯ @ ২:৫৭ পূর্বাহ্ণ । খেলাধুলা শীর্ষ খবর

নিউজ ডেস্ক: পাক-ভারত ব্যাট-বলের ময়াদানি লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ৮৯ রানে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিলো ভারত। আগে ব্যাট করে ভারতের দেয়া ৩৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৮ রান সংগ্রহ করলে বৃষ্টি হানা দেয়া পাকিস্তানের ইনিংসে। পৌনে এক ঘণ্টা খেলা বন্ধ থেকে আবার শুরু হলে, পাকিস্তানের সামনে এসে দাঁড়ায় ডাক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতি। যার ফলে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ৩০২ রানের অসম্ভব লক্ষ্য। ৩০ বলে করতে করতে হবে ১৩৪ রান। কিন্তু পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানরা ৪০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১২ রান করতে সক্ষম হয়। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন ওপেনার ফখর জামান।

টস হেরে এর আগে ব্যাট করতে নেমে রোহিত শার্মার (১৪০) ও বিরাট কোহলির (৭৭) রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৩৬ রান সংগ্রহ করে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা।

বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচকেও হার মানায়, সেরকমই একটি ম্যাচ ভারত-পাকিস্তানের এই মহারণ। খেলা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই ভক্ত-ক্রিকেট বিশ্লেষক ও সাবেকদের ঘুম নেই এই উত্তেজনায়। তার ওপর ম্যাচটি যদি হয় বিশ্বকাপ আসরের কোনো খেলা, তাহলে উদগ্রীবের মাত্রাটা বেড়ে যায় অনেকখানি বেশি। এই ম্যাচটি উত্তেজনা বাড়ানোর আরো একটি বড় কারণ হলো, ম্যাচটি শুধু খেলায় সীমাবদ্ধ থাকে না। দুই দেশের ভৌগলিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলে আসে এর চাপ। তাই দু’দেশের মান-সম্মানের লড়াইও বটে এটি।

সেরকমই পরিস্থিতি নিয়ে রোববার ম্যানচেস্টার ওল্ড ট্রাফোর্ডে সকাল ১০টায় (বংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩ টায়)মাঠে নামে ভারত ও পাকিস্তান। টস জিতে ভারতকে আগে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ।

ভারতীয় টপ অর্ডারদের রুখতে পাক অধিনায়ক শুরুতেই আক্রমণে আনেন দলের সেরা বোলিং অস্ত্র বামহাতি পেসার মোহাম্মাদ আমিরকে। তাতে ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শার্মা ও লোকেশ রাহুলও শুরু করেন সাবধানীভাবে। তাড়াহুড়ো না করে ভালো বলকে দিয়েছেন যথাযথ সম্মান, আবার খারাপ বল পেলেই বুঝিয়ে দিচ্ছেন যোগ্য পাওনা।

দেখে-শুনে খেলায় পাক বোলারদের সামনে উইকেট পাওয়ার ভালো কোনো সুযোগও দিচ্ছিলো না ভারতীয় দুই ওপেনার। তবে ইনিংসে ওয়াহাব রিয়াজের করা দশম ওভারের প্রথম বলেই ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল; কিন্তু পাকিস্তানি ফিল্ডার ফখর জামানের ভুলে জীবন পেয়ে যান রোহিত শর্মা। আর তাতে পাওয়ারপ্লের ১০ ওভারে ৫৩ রান তুলে নেয় ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। ১৮ ওভারেই তুলে নেয় দলীয় শতক। অপ্রতিরোধ্য ভারতীয় দুই ওপেনারকে একে একে সব অস্ত্র ব্যাবহার করেছেন সরফরাজ আহমেদ; কিন্তু কোনোভাবেই সাফল্য এনে দিতে পারেনি বোলাররা। দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে এসে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপে প্রথম আঘাত হানেন পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। ওয়াহাবের দুর্দন্ত এক ডেলিভারিতে বাবর আজমের তালুবন্দী হয়ে ৫৭ রান করে ফেরেন লোকেশ রাহুল। ২৩.৫ ওভারে ওপেনিং জুটি থেকে আসে ১৩৬ রান।

রাহুল আউট হলে ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামেন বিরাট কোহলি। এবার দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রোহিতের সঙ্গে জমে উঠে বিরাটের জুটি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে রোহিত শার্মা তুলে নেন ২০১৯ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। শতক হাঁকিয়ে হয়ে ওঠেন আরে বিধ্বংসী। রোহিত শেষ পর্যন্ত ১১৩ বলে ১৪ চার ও ৩ ছয়ে করেন ১৪০ রান। ৩৯তম ওভার করতে আসা হাসান আলিকে বেদড়ক পেটাতে গিয়ে ওয়াহাব রিয়াজের তালুবন্দী হয়ে ফেরেন রোহিত। কোহলি-রোহিতের এই জুটি থেকে আসে ৯৮ রান। ঝড় উঠাতে পান্ডিয়াকে ব্যাট করতে নেমানো হয় ৪ নাম্বার পজিশনে। ঝড়ের আভাস দিয়েও ১৯ বলে ২৬ রান করে আমিরের বলে বাবর আজমকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পান্ডিয়া। কোহলি তুলে নিয়েছেন নিজের ফিফটির অর্ধশতক। ৬৫ বলে ৭৭ রান করেন কোহলিও ফিরে যান আমিরের শিকার হয়ে। এক রান করে ফিরে যান মহেন্দ্র সিং ধোনিও। শেষ দিকে বিজয় শঙ্করের ১৫ ও কেদার যাদবের ৯ রানের ওপর ভর করে ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৩৬ রান সংগ্রহ করে বড় লক্ষ্য দাঁড় কারায় পাকিস্তানের সামনে।

পাকিস্তানী বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ আমির ৩টি, ওয়াহাব রিয়াজ ও হাসান আলি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

৩৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য পাড়ি দিতে ইনিংসের পঞ্চম এবং বিজয় শঙ্করের প্রথম ওভারে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ৭ রান করে ফিরে যান পাক ওপেনার উমাম উল হক। শুরুতেই এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। পাওয়ারপ্লের প্রথম ৫ ওভার থেকে আসে মাত্র ১৩ রান। ওয়ানডাউনে নেমে বাবর আজম ও ওপেনার ফখর জামান মিলে শুরু করেন দারুণ। দেখে-শুনে খেলে প্রাথমিক চাপ সামলিয়ে দলকে দেখাতে থাকে জয়ের স্বপ্নও। জুটিতে তোলেন ১০৪ রান। কিন্তু খেলার ২৪তম ওভারে দারুণ এক গুগলিতে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট বাবর আজমকে বোল্ড করে ভারতকে ম্যাচে নিয়ে আসেন কুলদীপ যাদব। ৫৭ বলে ৪৮ রান আসে বাবরের ব্যাট থেকে। তার আউটের পর পাকিস্তান ব্যাটিং অর্ডারে নামে ধস। ১১৭ রানের বাবর, ১২৬ রানের মাথায় ফখর, ১২৯ রানের মাথায় মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিকের উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে মোটামুটি ছিটকে পড়ে পাকিস্তান। চার নাম্বার পজিশনে ব্যাট করতে নামা সারফরাজের ব্যাট থেকে আসে ১৪ রান। তার আউটের পর ৩৫ ওভারের মাথায় খেলায় হানা দেয় বৃষ্টি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান। বৃষ্টির কারণে পৌনে ১ ঘণ্টার মতো খেলা বন্ধ থাকে। বৃষ্টি বন্ধ হলে পাকিস্তানের সামনে এসে দাঁড়ায় ডাক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতি। যার ফলে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪০ ওবারে ৩০২ রানের অসম্ভব লক্ষ্য। ৩০ বলে করতে করতে হবে ১৩৪ রান।

শেষ দিকে অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিমের ৩৯ বলে ৪৬ ও  শাদাব খানের ১৪ বলে ২০ রানের ওপর ভর করে ৪০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১২ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। যার ফলে ভারত ৮৯ রানে জিতে গেলো ময়দানের লড়াইয়ে। তাদের পাশে লিখা হলো বিশ্বকাপের সপ্তম বিজয়গাঁথা, আর পাকিস্তানের নামের পাশে থাকলো সেই ‘শূন্য’।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে কুলদীপ যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া ও বিজয় শঙ্কর প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

১১৩ বলে ১৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন ভারতীয় ওপেনার ব্যাটসম্যান রোহিত শার্মা।

বিজিএমইএ ৩ শতাংশ নগদ সহায়তা চায়
সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
Premium WordPress Themes Download
Free Download WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
free download udemy paid course
download karbonn firmware
Download Best WordPress Themes Free Download
udemy free download