আজ: মঙ্গলবার ৮ই শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুলাই ২০১৯ ইং, ১৯শে জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী

পরিবর্তন ছাড়াই ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট পাস

রবিবার, ৩০/০৬/২০১৯ @ ৭:০১ অপরাহ্ণ । অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয়

নিউজ ডেস্ক: সব দলের এমপিদের অংশগ্রহণে নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের মধ্য দিয়ে সংসদে পাস হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট। গতকাল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন বসার পর নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়। আজ সোমবার  অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই এ বাজেট কার্যকর হবে। তবে বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেট।
পরিবর্তনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৫০ হাজার টাকা বহাল রাখা। এছাড়া রিজার্ভ ও স্টক ডিভিডেন্ডে কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রে বর্ধিত করই বহাল রাখা হয়েছে।
১৩ই জুন অর্থমন্ত্রী  আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ

আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাবদ ব্যয় করা হবে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। বাজেটের ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। অনুমোদিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮.২ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫.৫ শতাংশ।
এদিকে বড় ধরনের কোনো সংশোধনী ছাড়াই অর্থবিল-২০১৯ পাস হয়েছে। বাজেট উপস্থাপনের পর থেকে যেসব বিষয়ে বেশি আলোচনা সমালোচনা হয়েছে সেগুলো হলো- বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে টিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক করা এবং সঞ্চয়পত্রের উৎসে করহার বৃদ্ধির প্রস্তাব। কিন্তু এ দুটি বিষয়ে কোনো সংশোধনী আনা হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেটের প্রস্তাবই বহাল রাখা হয়েছে পাসকৃত অর্থবিলে।

সংসদ সূত্রে জানা গেছে, সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ শতাংশ প্রস্তাব রেখেই অর্থবিল-২০১৯ পাস হয়েছে। বর্ধিত এ কর আরোপের প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি প্রত্যাহার হয়নি।

সংসদ সূত্র মতে, বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা ১৮ই জুন শুরু হয়ে ৩০শে জুন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। প্রায় ৫২ ঘণ্টার এ আলোচনায় মোট ৩৪৯ জন অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে বিরোধী দলের ৩৮ জন সদস্য অংশ নেন। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ সরকারি ও বিরোধী দলের বেশিরভাগ সদস্যের উপস্থিতিতে রোববার বাজেটের ওপর ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ৪৮৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনা হয়। সরকার ও বিরোধী দলের হুইপের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী ৪টি মঞ্জুরি দাবি আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে আলোচনা শেষে মঞ্জুরি দাবিগুলো কণ্ঠভোটে সংসদে গৃহীত হয়। এরপর অর্থমন্ত্রী বৈষম্য দূর করে টেকসই উন্নয়ন করার লক্ষ্য নিয়ে সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৮ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন নিতে ‘নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৯’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিতে তা পাস হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট বাস্তবায়নের যাত্রাকে স্বাগত জানান। এ সময় অর্থমন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্যদের সবাইকে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানান। নির্দিষ্টকরণ বিলটি মূলত গ্রস বাজেট। বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও অন্যান্য খাতে বাজেটে সরকারের অর্থ বরাদ্দের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এই অর্থ কখনও ব্যয় হয় না, যা বাজেটের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে হিসাব মেলানো হয়। এ বাধ্যবাধকতার কারণে এবারের বাজেটেও ১ লাখ ১৯ হাজার ২৮৮ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা ব্যয় হবে না। অর্থমন্ত্রী গত ৭ই জুন ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার যে বাজেট উত্থাপন করেছেন, সেটাই ব্যয় হবে। সেটাই আগামী অর্থবছরের নিট বাজেট।

যে ৪টি মঞ্জুরি দাবি নিয়ে আলোচনা হয়, এর মধ্যে কৃষিখাতে বরাদ্দের বিরুদ্ধে ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ হলেও কৃষক উৎপাদিত ফসলের দাম পাচ্ছেন না। ধানের দাম না পেয়ে আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও কোথাও কোথাও ঘটেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপিরা নিয়ে গেলেও সামান্য ঋণ নেয়ার কারণে ৪৫ হাজার কৃষকের বিরদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কৃষকদের ঋণ কখনো মওকুফ করা হয় না। অথচ ঋণ খেলাপিদের বিরদ্ধে মামলা হয় না। সরকারকে কৃষকবান্ধব হতে হবে, মিলার বান্ধব নয়। কৃষকদের ঋণের সুদ মওকুফ ও পর্যাপ্ত ভর্তুকি দিতে হবে।

জবাবে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব এবং নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বলেই উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়েছে। এখনও ৪০ ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে রপ্তানি আয় অনেক বেশি। রপ্তানিকে বহুমুখী করতে না পারলে অর্থনীতি বিকশিত হবে না।

শিক্ষাখাতে বরাদ্দের বিরোধীতা করে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলেছেন, যখন একটি সরকার এক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকার পরও বিদেশ থেকে শিক্ষক আনতে চায়, সেই সরকরের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার থাকে না। প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে সরকার-বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি শিক্ষা উন্নয়ন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে বলেন, লন্ডন ভিত্তিক একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের জরিপ অনুযায়ী, এশিয়ার শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ফিলিপাইনসহ কয়েকটি দেশ থাকলেও আমাদের দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। শিক্ষার মান ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
এসব অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র করে, শিক্ষার্থীদের হাতে মাদক তুলে দেয়, হিজবুর বাহারে মেধাবী ছাত্রদের বিপদগামী করে। যারা এসব অনৈতিক কাজগুলো করে তাদের কাছে নৈতিকতার ছবক নেয়া একটু হাস্যকরই মনে হয়। বিএনপি-জামায়াতের আমলে নিয়ম বিরুদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এখন সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাচাই করার সময় এসেছে।

আলোচনায় স্বাস্থ্যখাতের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বলেন, বিএনপি আমলে ডাক্তাদের দলীয়করণের কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাতের এই অবস্থা। চিকিৎসা নিতে মানুষ বিদেশে যাচ্ছে। সাত হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে বিদেশে চিকিৎসার জন্য। কিন্তু দেশেও ভাল চিকিৎসা হচ্ছে। তবে দেশের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে মানুষ দরিদ্র হচ্ছে।

পুলিশ হেফাজতে ডিআইজি মিজান
লাইফ সাপোর্টে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ
Premium WordPress Themes Download
Free Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download Best WordPress Themes Free Download
free online course
download coolpad firmware
Download Best WordPress Themes Free Download
udemy free download

সর্বশেষ ১০ খবর