আজ: মঙ্গলবার ৮ই শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুলাই ২০১৯ ইং, ১৯শে জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী

ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ মাষ্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে চসিক ওয়াসা ঐক্যমত

বৃহস্পতিবার, ১১/০৫/২০১৭ @ ১:৪২ অপরাহ্ণ । চট্টগ্রাম

 নিউজ ডেস্ক : অবশেষে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন কল্পে ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ মাষ্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে এক সঙ্গে কাজ করতে ঐক্যমত হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন। ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ মাষ্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে দু পক্ষের মধ্যে একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।

২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা বাস্তবায়ন করবে এ প্রকল্প। ২০৩০ সালে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে নগরবাসীর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী এ.কে.এম ফজলুল্লাহ বলেন, ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ সিস্টেম আলাদা করা না হলে হালদা ও কর্ণফুলী নদী দুষিত হয়ে মিঠা পানি সংকটে পড়বে নগরবাসী। তিনি বলেন, স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা আলাদা না থাকায় প্রতিদিনি টনে টনে বর্জ হালদা ও কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে। জোয়ার ভাটার নদী হওয়ায় এখনো তার প্রভাব না পড়লেও এক সময় এ দুটি নদী বুড়িগঙ্গার মত হয়ে পড়বে। সংকটে পড়তে হবে মিঠা পানির।

এদিকে জলাবদ্ধতা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হলেও নির্বাচনের পর কেউ এ নিয়ে বাস্তবসম্মত কর্মকৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। ফলে জনগণ থেকে নেয়া কর, বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার অনুদান ও স্থানীয় সরকারের বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা জল অপসারণের নামে লোপাট হয় বলে অভিযোগ উঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ুর পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, অপচনশীল পলিথিন এবং খাল-নালা ভরাট। পলিথিনের ব্যবহার রোধ, ভরাট খাল-নালা উদ্ধারের পাশাপাশি ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করা না গেলে চট্টগ্রাম নগরীতে ১২ মাসই থাকবে জলাবদ্ধতা!

জলাবদ্ধতাকে চট্টগ্রামের এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা নিরসনে চায়নার সাথে ৫ হাজার কোটি টাকার মেঘা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান মেয়র আ.জ.ম নাছির। জলাবদ্ধতা নিরসনে হাতে নেয়া ৫ হাজার কোটি টাকার এ মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়ন সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এদিকে সিটি কর্পোরেশনের এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, মহানগরে জলাবদ্ধতার তিনটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নালা ও খাল বেদখল এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার রোধে প্রশাসনিক ব্যর্থতা। ফলে অতিবৃষ্টিতে কর্ণফুলী নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানি চাক্তাই খাল, ডোম খাল, হিজড়া খাল, নয়া মির্জা খাল, শীতল ঝর্ণা খাল, বামুননয়া হাট খাল, গুলজার খাল, বীর্জা খাল, ইছান্যা খাল, মাইট্টা খাল, লালদিয়ার চর খাল, ত্রিপূরা খাল, নাছির খাল, গয়না ছড়া খাল, কাট্টলী খাল, চশমা খাল দিয়ে নগরীতে প্রবেশ করে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রাণাধীন এ ১৭টি খাল এক শ্রেণির খালখেকোর কবলে পড়ে এখন নালায় পরিণত হয়েছে।

নগরী মানচিত্রে খাল থাকলেও বাস্তবে অনেক খালের কোনো চিহ্ন নেই! ফলে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি হয় ভয়াবহ। প্রবেশ করা জোয়ারের পানি ও বৃষ্টিপাত একাকার হয়ে যায়। এ পানি ভরাট ও বেদখল হওয়া খাল ও নালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাদেও অপশক্তির কাছে যেন ধরাশায়ী সিটি কর্পোরেশন!

রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতায় খাল ও নালা খেকোরা সব সময়ে থাকে শাস্তির বাইরে। কখনো কখনো কর্পোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলেই এ সব নালা ও খালখেকোরা আদালত থেকে নিয়ে আসে স্থিতি আদেশ। এর সঙ্গে যোগ হয়, কর্পোরেশনের কতিপয় কর্মকর্তার ধীরে চলা আমলাতান্ত্রিক কৌশল এবং আইন কর্মকর্তাদের গাফেলতি।

খাগড়াছড়িতে পিতা-পুত্রকে গুলি করে হত্যা
‘লক্ষ্মীপুরে ডেসটিনি পরিবার ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তির আন্দোলন করছে’
Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download Best WordPress Themes Free Download
Download Premium WordPress Themes Free
udemy free download
download samsung firmware
Download Best WordPress Themes Free Download
udemy course download free

সর্বশেষ ১০ খবর